19.7 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণায় ব্যবসা ও ভোক্তাদের মুখোমুখি অনিশ্চয়তা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণায় ব্যবসা ও ভোক্তাদের মুখোমুখি অনিশ্চয়তা

ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের শুক্রবারের পরে মার্কিন সরকারের নতুন শুল্ক নীতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন, যা ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য অনিশ্চয়তার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের পেছনে সর্বোচ্চ আদালতের রায় রয়েছে, যেখানে ট্রাম্পকে ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (International Emergency Economic Powers Act) ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী আমদানি শুল্ক আরোপের অনুমতি না দেওয়া হয়।

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প একটি ঘোষণাপত্রে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ১২২ ব্যবহার করে সকল দেশের পণ্যভিত্তিক ১০% সাময়িক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। একই দিনে তিনি সামাজিক মাধ্যমে শুল্কের হার ১৫% পর্যন্ত বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা পূর্বে নির্ধারিত ১০% শুল্কের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

এই পরিবর্তন বিশেষভাবে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ, যাদের সঙ্গে মার্কিন সরকার পূর্বে ১০% শুল্কের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এখন ধারা ১২২ অনুযায়ী এই চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে, ফলে পূর্বে নির্ধারিত শুল্ক হার অচল হয়ে নতুন গ্লোবাল শুল্কের আওতায় আসবে।

ব্রিটিশ চেম্বারস অব কমার্সের ট্রেড পলিসি প্রধান উইলিয়াম বেইন উল্লেখ করেন, শুল্ক নীতির ধারাবাহিক পরিবর্তন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও মূল্য নির্ধারণে অস্বচ্ছতা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, কোম্পানিগুলো ক্রমাগত নীতি পরিবর্তনের কারণে ক্লান্ত এবং গ্রাহকদের জন্য মূল্য নির্ধারণে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বেইনের মন্তব্যের পাশাপাশি, বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুল্কের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করে, ধারাবাহিক নীতি পরিবর্তন সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে পণ্যের খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলে।

গত বছর ট্রাম্পের “লিবারেশন ডে” শুল্ক ঘোষণার পর বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের রপ্তানি পণ্যের শুল্ক কমাতে আলোচনা চালায়। যুক্তরাজ্য ১০% শুল্কে সমঝোতা করে আমদানি সুবিধা পেয়েছিল, তবে নতুন রায়ের পরে এই সুবিধা ঝুঁকির মুখে।

সপ্তাহের শেষের দিকে মার্কিন হোয়াইট হাউস জানায়, ধারা ১২২ অনুযায়ী গ্লোবাল শুল্ক প্রয়োগের পরেও তারা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতা বজায় রাখবে। তবে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা বা শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

শুল্কের হারের দ্রুত পরিবর্তন ভোক্তাদের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে তুলতে পারে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, গাড়ি ও কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে। আমদানি খরচ বৃদ্ধি সরাসরি রিটেইল মূল্যে প্রতিফলিত হবে, যা ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি করে।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে, কোম্পানিগুলো এখন শুল্কের নতুন হার অনুযায়ী সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠন করতে বাধ্য। এতে বিক্রয় চ্যানেল পরিবর্তন, বিকল্প সরবরাহকারী অনুসন্ধান এবং মূল্য সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন, শুল্কের অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে, বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগের জন্য। তারা যুক্তি দেন, দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।

মার্কিন সরকার এখনও বলছে, তারা বৈধ চুক্তিগুলোকে সম্মান করবে এবং কোনো একতরফা শুল্ক বাড়ানো হবে না। তবে ধারা ১২২ এর অধীনে গ্লোবাল শুল্কের প্রয়োগের ফলে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সংক্ষেপে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির হঠাৎ পরিবর্তন ব্যবসা ও ভোক্তাদের জন্য মূল্য ও সরবরাহের দিক থেকে নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। শুল্কের হার ১০% থেকে ১৫% পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা বাজারের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলবে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পুনর্গঠনকে বাধ্য করবে।

ভবিষ্যতে শুল্ক নীতির স্থিতিশীলতা ও স্পষ্টতা না থাকলে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গড়তে কঠিন হবে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। তাই শুল্কের চূড়ান্ত রূপ ও প্রয়োগের সময়সীমা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments