19.7 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগর্ডন ব্রাউন এন্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর ও জেফ্রি এপস্টেইনের সাক্ষাতের তদন্তের দাবি

গর্ডন ব্রাউন এন্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসর ও জেফ্রি এপস্টেইনের সাক্ষাতের তদন্তের দাবি

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এন্ড্রু মাউন্টবাটেন-উইন্ডসরকে ট্যাক্সপেইড জেট এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) বেস ব্যবহার করে পেডোফিলিয়া মামলার অভিযুক্ত জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিল কিনা তা জানার জন্য একাধিক পুলিশ দপ্তরে তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে ছয়টি পুলিশ সংস্থাকে চিঠি লিখে সিভিল সার্ভেন্টদের প্রশ্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহের আহ্বান জানান। এন্ড্রু ২০০১ থেকে ২০১১ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ট্রেড এনভয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে প্রায় তিন বছর গর্ডন ব্রাউন নং ১০-এ ছিলেন।

ব্রাউন চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে এন্ড্রুর ট্রেড এনভয় সময়কালে সরকারি ব্যয়, জেট ব্যবহারের রেকর্ড এবং এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংযোগের প্রমাণ আছে কিনা তা স্পষ্টভাবে তদন্ত করা দরকার। তিনি ট্রেড এনভয় পদের সামগ্রিক খরচ এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সম্ভাব্য লেনদেনের সব দিক বিশ্লেষণ করার দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরেছেন। এন্ড্রু পূর্বে এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই বলে অস্বীকার করেছেন।

ব্রাউন বিবিসি-কে জানান যে তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশ, সারি, সাসেক্স, থেমস ভ্যালি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দপ্তরে পাঁচ পৃষ্ঠার একটি স্মারক জমা দিয়েছেন। এই স্মারকে পূর্বে মেট্রোপলিটন, এসেক্স এবং থেমস ভ্যালি পুলিশকে পাঠানো স্মারকের তুলনায় নতুন ও অতিরিক্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই নথি এপস্টেইনের শিকারী নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংগ্রহের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ব্রাউনের উদ্বেগের একটি মূল বিষয় হল ডিসেম্বর ২০০০-এ এপস্টেইন একটি গালফস্ট্রিম জেট দিয়ে নরফোকের RAF মারহাম বেসে অবতরণ করেছিলেন। মারহাম বেস স্যান্ডরিংহাম এস্টেট থেকে প্রায় ২০ মাইল (৩২ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত, যা রাণীর গৃহের নিকটবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি। এই উড্ডয়নটি এন্ড্রুর সঙ্গে কোনো সাক্ষাতের ইঙ্গিত দেয় কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ব্রাউন এই ঘটনার ওপর বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন।

এই বেসে এপস্টেইনের উড্ডয়ন এবং যুক্তরাজ্যে তার অন্যান্য ভ্রমণগুলো বিবিসি-র ডিসেম্বর মাসের তদন্তে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে দেখা যায় এপস্টেইন বহুবার বেসে অবতরণ করে এবং বেসের অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উড্ডয়ন সম্পন্ন করতেন। ঐ তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে এ ধরনের ব্যবহার রয়্যাল এয়ার ফোর্সের অনুমোদিত নীতিমালা অনুসারে হয়।

মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্সের মতে, যুক্তরাজ্যের RAF বেসে ফাঁকা ক্ষমতা থাকলে তা বেসরকারি বা বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করতে পারে, তবে তা ফি দিয়ে কভার করা হয় এবং সামরিক উড্ডয়নের ওপর কোনো প্রভাব না পড়লে অনুমোদন দেয়া হয়। এই নীতি অনুসারে এপস্টেইনের উড্ডয়নগুলোও অনুমোদিত হতে পারে, তবে তা নিশ্চিত করা এখনো তদন্তের বিষয়।

ব্রাউন উল্লেখ করেছেন যে পুলিশ যদি এই সব রেকর্ড এবং ফি সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে তবে এন্ড্রুর সরকারি দায়িত্বের সময়কালে ট্যাক্সপেইড সম্পদ কীভাবে ব্যবহার হয়েছে তা স্পষ্ট হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এপস্টেইনের শিকারী মেয়েরা এবং নারীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত এবং স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।

পরবর্তী ধাপে মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর স্মারকে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি কোনো অবৈধ সংযোগ বা ট্যাক্সপেইড সম্পদের অপব্যবহার প্রমাণিত হয়, তবে তা রাজনৈতিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ব্রাউন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহি করতে এবং শিকারীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments