বিল গার্লি, সিলিকন ভ্যালির প্রখ্যাত ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, অস্টিনে স্থানান্তরিত হয়ে এখন বই, ফাউন্ডেশন এবং নীতি গবেষণা সংস্থার মাধ্যমে ক্যারিয়ার গঠনের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদ পথে চলা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মবাজারে দ্রুত পরিবর্তন আনছে।
প্রায় ত্রিশ বছর ধরে বেঞ্চমার্কের জেনারেল পার্টনার হিসেবে গার্লি সিলিকন ভ্যালির মূলধারার কণ্ঠস্বর ছিলেন। উবার, জিলো এবং স্টিচ ফিক্সের মতো স্টার্টআপে তার প্রাথমিক বিনিয়োগগুলো ভেঞ্চার ক্যাপিটালের আধুনিক রূপ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সফল ট্র্যাক রেকর্ড তাকে শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গার্লি সক্রিয় বিনিয়োগ থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে অস্টিনে বসতি স্থাপন করেন। তিনি এখন বিনিয়োগের চেয়ে বৃহত্তর সামাজিক প্রভাবের দিকে মনোযোগ দেন, যেখানে তার অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা নতুন উদ্যোগের চেয়ে নীতি ও শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়।
তার নতুন বই “Runnin’ Down a Dream” শিরোনামটি টম পেটির গানের প্রতি সম্মানসূচক, তবে মূল বার্তা হল আবেগের পেছনে থাকা কৌশলগত মূল্য। গার্লি যুক্তি দেন, নিজের আগ্রহকে অনুসরণ করা কেবল রোমান্টিক নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই যুগে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের একটি বাস্তব উপায়।
বইয়ের পাশাপাশি গার্লি “Running Down a Dream Foundation” নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই সংস্থা প্রতি বছর ১০০টি গ্র্যান্ট প্রদান করবে, প্রতিটি গ্র্যান্টের পরিমাণ $5,000, যাতে আর্থিক নিরাপত্তা পেতে না পারা উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীরা সাহসিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ফাউন্ডেশনটি ঝুঁকি নিতে ইচ্ছুক কিন্তু সম্পদ সীমাবদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য একটি সুরক্ষা জাল হিসেবে কাজ করবে।
গার্লি আরও একটি নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, যার লক্ষ্য হল এমন সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যেখানে তার অভিজ্ঞতা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও বিশদ পরিকল্পনা এখনো প্রকাশিত হয়নি, তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই উদ্যোগটি প্রযুক্তি, শিক্ষা ও শ্রম নীতির সংযোগস্থলে কাজ করবে।
বইয়ের ধারণা গার্লির জীবনের একটি পর্যায়ে জন্ম নেয়, যখন তিনি বিভিন্ন জীবনীমূলক বই পড়ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ের ব্যক্তিত্বের মধ্যে পুনরাবৃত্ত প্যাটার্ন সনাক্ত করছিলেন। এই পর্যবেক্ষণগুলো তিনি নোটে রেকর্ড করে পরে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বক্তৃতা দিলেন। বক্তৃতার রেকর্ডিং ইউটিউবে আপলোড হওয়ার পর, হিটসের লেখক জেমস ক্লিয়ার তা লক্ষ্য করে তার নেটওয়ার্কে শেয়ার করেন, যা গার্লিকে বই লেখার সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে গার্লি জানান, এআই কর্মসংস্থানের কাঠামোকে দ্রুত পরিবর্তন করছে এবং যারা নিরাপদ পথে চলতে চায় তারা ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়তে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে নতুন দক্ষতা অর্জন এবং ঝুঁকি নেওয়া অপরিহার্য।
যুব উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রচলিত ৯৯৬ কাজের সংস্কৃতি নিয়ে গার্লি মন্তব্য করেন, এটি তেমন ভয়াবহ নয় যতটা শোনা যায়। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত কাজের সময়ের চেয়ে প্রকৃত ফলাফল ও উদ্ভাবনের গুণমান বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এবং সঠিক সমতা বজায় রেখে কাজ করা সম্ভব।
গার্লি এছাড়াও উল্লেখ করেন, তার সহকর্মী ও প্রাক্তন টেক নেতারা এখন ওয়াশিংটন ডি.সি.-তে উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখছেন, যা প্রযুক্তি ও নীতির সংযোগকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। এই পরিবর্তনটি শিল্পের জন্য সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই তৈরি করছে, বিশেষ করে নীতি নির্ধারণে প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার ক্ষেত্রে।
সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি টেকক্রাঞ্চের “StrictlyVC Download” পডকাস্টে মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে গার্লি তার ক্যারিয়ার, বই, ফাউন্ডেশন এবং এআই যুগে কর্মজীবনের কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
গার্লির বার্তা স্পষ্ট: নিরাপদ পথে চলা আরেকটি বিকল্প নয়, বরং ঝুঁকি গ্রহণ এবং উদ্ভাবনী চিন্তাধারার মাধ্যমে ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকা সম্ভব। তার উদ্যোগগুলো উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, জ্ঞানভিত্তিক দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রভাবের নতুন পথ খুলে দেবে।



