নতুন সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর পদে বর্তমান তাজুল ইসলামকে বাদ দিয়ে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করেছে। সিদ্ধান্তটি সরকারী মিটিংয়ের পরে গৃহীত হয় এবং ইতিমধ্যে তাজুল ইসলামকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম পূর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল‑বিএনপি-র চেয়ারপার্সন হিসেবে কাজ করেছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলায় তার আইনজীবী দলের সদস্য ছিলেন। ওই মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি কয়েক মাস কারাবাস কাটিয়েছেন।
তাজুল ইসলামকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সরকার থেকে পূর্বে জানানো হয়েছে, তবে তিনি বা তার টিমের কোনো মন্তব্যের অনুরোধে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাজুলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি এবং সরকারী মুখপাত্রের কাছ থেকেও এই বিষয়ের উপর কোনো মন্তব্য শোনা যায়নি।
আইসিটি বর্তমানে জুলাই ২০২৪-এ গণআন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারী ও পথচারীদের হত্যা-আহত করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলি পরিচালনা করছে। এই মামলাগুলির ফলাফল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পতিত হয় এবং আইসিটি-র কার্যক্রম তীব্রতর হয়। একই সঙ্গে ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত গুমের ঘটনাসংক্রান্ত মামলাগুলিও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এ পর্যন্ত তিনটি গুমের মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে।
তিন দিন আগে তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তিনি বা তার টিমের কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত তিনি পেয়েছেন না। এই মন্তব্যের পরেও সরকারী পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।
অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের প্রস্তাবিত নিয়োগের পেছনে সরকার নতুন আইসিটি নেতৃত্বের মাধ্যমে চলমান মামলাগুলির দ্রুত সমাধান এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য রাখছে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি-র অভ্যন্তরে এই পদে নাম প্রস্তাবের ফলে পার্টির মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, কারণ আমিনুল ইসলাম পূর্বে পার্টির শীর্ষ পদে ছিলেন এবং তার জেলখানা সময়ের ঘটনা এখনও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব এই পরিবর্তনকে আইসিটি-র স্বতন্ত্রতা ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের জন্য কোনো আইনী বাধা নেই এবং প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন চিফ প্রসিকিউটর নির্বাচনের জন্য একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করা হবে এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পর সরকারী অনুমোদন প্রাপ্ত হবে। অনুমান করা হচ্ছে, এই প্রক্রিয়া আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে।
যদি আমিনুল ইসলাম চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিযুক্ত হন, তবে তিনি আইসিটি-র চলমান মামলাগুলিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আইসিটি-র কার্যকারিতা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করা যায়। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসতে পারে।
সারসংক্ষেপে, নতুন সরকার তাজুল ইসলামকে বাদ দিয়ে আমিনুল ইসলামের নাম চিফ প্রসিকিউটর পদে বিবেচনা করেছে, যা আইসিটি-র বর্তমান মামলাগুলির গতি এবং দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই পরিবর্তন বাস্তবায়িত হবে তা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



