20.9 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুদান সরকার উগান্ডার দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নেতা স্বাগতকে মানবতার আপত্তি বলে সমালোচনা

সুদান সরকার উগান্ডার দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নেতা স্বাগতকে মানবতার আপত্তি বলে সমালোচনা

সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উগান্ডার প্রেসিডেন্টের এনটেব্বে গৃহে দ্রুত সহায়তা বাহিনীর কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগালোকে স্বাগত জানাতে “মানবতার আপত্তি” বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উগান্ডার প্রেসিডেন্ট যোয়েরি মুসেভেনি শুক্রবার দাগালোকে তার সরকারি বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছেন। মুসেভেনি আফ্রিকান ইউনিয়নের নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।

সুদান সরকার জানিয়েছে, উগান্ডা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে দাগালোকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এই পদক্ষেপকে “অপ্রতিদ্বন্দ্বী” এবং “মানবতার প্রতি আপত্তিকর” বলে বর্ণনা করেছে। মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, এই বৈঠকটি সুদানের জনগণের প্রতি সরাসরি অবমাননা হিসেবে বিবেচিত। উগান্ডি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মুসেভেনি দাগালোকে সাক্ষাতে জোর দিয়ে বলেছিলেন, সুদানের সামরিক ও দ্রুত সহায়তা বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান কেবল সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেছেন, উগান্ডি সরকার এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণে উৎসাহিত করতে চায়। তার বক্তব্যে কোনো শর্ত আরোপ বা সমর্থন প্রকাশ করা হয়নি।

সুদান ও দ্রুত সহায়তা বাহিনীর মধ্যে প্রায় তিন বছর ধরে চলমান ক্ষমতার লড়াই এখনো সমাপ্ত হয়নি। সামরিক বাহিনী ও দ্রুত সহায়তা বাহিনী উভয়ই গৃহযুদ্ধের সময় ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত। সংঘাতের ফলে শত শত হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, ১৩ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে এবং ব্যাপক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দ্রুত সহায়তা বাহিনীর এল-ফ শহরের ওপর ঘেরাও চলাকালে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের প্রমাণ উন্মোচিত হয়েছে। এই তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্রুত সহায়তা বাহিনীর কার্যক্রমের ওপর তীব্র সমালোচনা বাড়িয়ে দিয়েছে। উগান্ডি সরকার এই অভিযোগগুলোর প্রতি কীভাবে সাড়া দেবে তা এখনো অনিশ্চিত।

সুদানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাগালোকে স্বাগত জানানোকে “সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার নেতা” হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং উগান্ডির এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করেছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, উগান্ডি সরকার যদি কোনো আন্তর্জাতিক নীতি লঙ্ঘন করে থাকে, তবে তা আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়বে।

মুসেভেনি দাগালোকে স্বাগত জানাতে যে গৃহে সাক্ষাৎ করেছেন, তা উগান্ডি প্রেসিডেন্সির সরকারি সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত। এই সাক্ষাৎকারের সময় উগান্ডি প্রেসিডেন্ট দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন, সংলাপ ছাড়া কোনো স্থায়ী শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়।

সুদানের সরকার উগান্ডি সরকারের এই পদক্ষেপকে “অপ্রতিদ্বন্দ্বী” বলে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে উগান্ডি দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নেতাকে স্বাগত জানানো বন্ধ করে আন্তর্জাতিক আইনের মান বজায় রাখে। মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে উগান্ডির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনার পর উগান্ডি ও সুদানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব পড়বে তা এখনো স্পষ্ট নয়। উগান্ডি সরকার যদি দাগালোকে স্বাগত জানাতে থাকে, তবে তা সুদানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, উগান্ডি যদি এই বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে, তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরে আসতে পারে।

আফ্রিকান ইউনিয়ন মুসেভেনিকে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা গড়ে তোলার দায়িত্ব প্রদান করেছে। মুসেভেনি এই দায়িত্বের আওতায় দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নেতা দাগালোকে সাক্ষাৎ করে শান্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, উভয় পক্ষের জন্য সংলাপই একমাত্র টেকসই সমাধান।

সুদানের সামরিক বাহিনী ও দ্রুত সহায়তা বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে দেশের অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং মানবিক সংকট বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছে। উগান্ডির এই বৈঠক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

সুদানের সরকার ভবিষ্যতে উগান্ডির সঙ্গে কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নেতার স্বাগতকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা যায়। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, উগান্ডি যদি এই বিষয়টি অবহেলা করে, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, উগান্ডি ও সুদানের মধ্যে এই নতুন সংলাপের সূচনা উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিতে প্রভাব ফেলবে। দ্রুত সহায়তা বাহিনীর নেতা দাগালোকে স্বাগত জানানোকে মানবতার আপত্তি বলে সমালোচনা করা সুদানের সরকারকে আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের একটি কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে থাকবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments