জাতীয় নাগরিক দল ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রার্থীর প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দলীয় মুখপাত্রের মতে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং আরিফুল ইসলাম আদীবকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দলটি দুইটি সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রাথমিক বাছাই শেষ করে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রাথমিক আলোচনায় উভয় প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে এবং তাদের পার্টির অভ্যন্তরে সমর্থন গড়ে তুলছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জাতীয় নাগরিক দলের প্রতিনিধিত্বে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি পূর্বে পার্টির বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং এই পদে তার অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জন্য আরিফুল ইসলাম আদীবকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আদীবের রাজনৈতিক পটভূমি এবং স্থানীয় সংযোগগুলোকে দলটি শক্তিশালী সমর্থন হিসেবে দেখছে।
দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উভয় প্রার্থীর প্রোফাইল, নির্বাচনী কৌশল এবং ভোটার ভিত্তি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সক্ষমতা এবং সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আদীবের কাছ থেকে জানা যায়, তিনি এবং আসিফ মাহমুদ দুজনই দলের প্রাথমিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন এবং চূড়ান্ত তালিকা সম্পর্কে পার্টি থেকে পরবর্তীতে জানানো হবে। তিনি নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেছেন যে, সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রও জানিয়েছে, তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক এবং পার্টি থেকে সমর্থন পেতে প্রস্তুত। উভয় প্রার্থীর প্রস্তুতি ও প্রচারাভিযান পরিকল্পনা এখন গঠনমূলক পর্যায়ে রয়েছে।
এই প্রার্থীদের নির্বাচন জাতীয় নাগরিক দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মুহূর্ত। দু’টি সিটি কর্পোরেশন দেশের বৃহত্তম নগর প্রশাসনিক ইউনিট, এবং এখানে জয়লাভ পার্টির শহুরে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোরও এই দুই সিটি কর্পোরেশনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা শুরু করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই জাতীয় নাগরিক দলকে দ্রুত এবং স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করা যায়।
চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম প্রকাশের পর, দলটি নির্বাচনী প্রচার, ভোটার সংযোগ এবং নীতি ভিত্তিক প্রতিশ্রুতি তুলে ধরতে মনোযোগ দেবে। বিশেষ করে নগর উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিষেবা প্রদানকে কেন্দ্র করে প্রোগ্রাম গঠন করা হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, পার্টি শীঘ্রই একটি প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম জানাবে। এই ঘোষণার পর নির্বাচনী সময়সূচি, ভোটার তালিকা এবং প্রচারাভিযানের মূল দিকগুলো নির্ধারিত হবে।
জাতীয় নাগরিক দলের এই পদক্ষেপ ঢাকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি সৃষ্টি করবে এবং পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে পার্টির অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।



