ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক মিডিয়া পোস্টে গ্রিনল্যান্ডে একটি হাসপাতাল জাহাজ পাঠিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশের পর গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স‑ফ্রেডেরিক নিলসেন সরাসরি তার সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
ট্রুথ সোশ্যাল‑এ ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি জাহাজে চিকিৎসা সামগ্রী পাঠাবেন, কারণ দ্বীপে “অনেক মানুষ অসুস্থ” এবং “যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না”। তিনি এই উদ্যোগকে “মহান হাসপাতাল জাহাজ” হিসেবে বর্ণনা করে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানোর ইঙ্গিত দেন।
প্রকাশিত পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুইটি হাসপাতাল জাহাজের একটি, USNS Mercy‑এর কৃত্রিম চিত্র দেখা যায়, যা সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশন ব্যবহার করে তৈরি। ছবিতে জাহাজের নাম ও নকশা স্পষ্ট, তবে কখন তা গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছাবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী নিলসেন ফেসবুকে দ্রুত উত্তর দিয়ে জানিয়েছেন, “এটি আমাদের কাছ থেকে কোনো ধন্যবাদ নয়” এবং গ্রিনল্যান্ডের সকল নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ইতিমধ্যে জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন।
নিলসেন আরও উল্লেখ করেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ডাক্তারের কাছে যাওয়া খরচসাপেক্ষ, কিন্তু আমাদের দেশে চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে”। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি গ্রিনল্যান্ডের স্বাস্থ্য নীতির পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন এবং ট্রাম্পের প্রস্তাবকে অপ্রয়োজনীয় বলে দেখিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও একবার জোর দিয়ে বলেন, “সামাজিক মিডিয়ায় হঠাৎ করে করা মন্তব্যের বদলে সরাসরি আমাদের সঙ্গে কথা বলুন”। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশের পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বে আকৃষ্ট ছিলেন; ২০২২ সালে তিনি দ্বীপটি কিনতে চাইতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে জানুয়ারি মাসে তিনি বলেছিলেন, “শক্তি ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ড নেব না” এবং পূর্বে তার এই দাবিকে অস্বীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপর ডেনমার্ক ও ন্যাটো (ন্যাটো) সদস্য দেশগুলো তার স্বায়ত্তশাসন ত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করার পর, ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি “ভবিষ্যৎ চুক্তির কাঠামো” ঘোষণা করেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে সম্ভাব্য সহযোগিতা নির্দেশ করে। তবে এই কাঠামো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
ডেনমার্কের যৌথ আর্কটিক কমান্ড সম্প্রতি নুকু শহরের নিকটবর্তী একটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন থেকে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজনীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনা ট্রাম্পের পোস্টের সঙ্গে সময়ের সামঞ্জস্যে ঘটেছে, তবে উভয় ঘটনার সরাসরি সংযোগ স্পষ্ট নয়।
নিলসেন জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত, তবে তা স্বচ্ছ ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা কোনো র্যান্ডম সামাজিক মিডিয়া পোস্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেই”।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের আর্কটিক নীতি ও ডেনমার্কের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত USNS Mercy‑এর প্রস্থান সময়সূচি বা গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশিত হয়নি। উভয় পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আহ্বান এবং স্বাস্থ্যসেবা নীতির পার্থক্য স্পষ্ট হওয়ায়, ভবিষ্যতে কোনো বাস্তবিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।



