23.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeঅন্যান্যব্রিটেনে জেনারেশন জেডের চার্চে অংশগ্রহণে হঠাৎ বৃদ্ধি দেখা গেল

ব্রিটেনে জেনারেশন জেডের চার্চে অংশগ্রহণে হঠাৎ বৃদ্ধি দেখা গেল

ব্রিটেনের উইল্টশায়ার থেকে ২৭ বছর বয়সী জে পেইন্টার, মে ২০২৪-এ দাদার মৃত্যুর পর আত্মার প্রস্থান অনুভব করেন এবং সত্যের সন্ধানে নিজেকে ডুবিয়ে দেন। গসপেল পড়ার সময় পৃষ্ঠায় ‘চিৎকার’ শব্দগুলো তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, ফলে তিনি আত্মবিশ্বাসী নাস্তিক থেকে একই বছর খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন।

নতুন ধর্মে তার পরিবর্তন পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে সহজে গৃহীত হয়নি; অধিকাংশই ধর্মনিরপেক্ষ এবং তার বিশ্বাস নিয়ে আলোচনা করা প্রায়শই কঠিন হয়ে পড়ে। তবে বাপ্তিস্মের কয়েক মাস পর, তরুণদের মধ্যে ‘শান্ত পুনর্জাগরণ’ নামে একটি প্রবণতা সম্পর্কে মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা তাকে একাকিত্বের অনুভূতি থেকে মুক্তি দেয়।

জে বলেন, সমবয়সী যারা যীশুর প্রতি উত্সাহী এবং গভীর অনুসন্ধানে লিপ্ত, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তাকে অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ প্রদান করে। তিনি উল্লেখ করেন, এমন একটি সম্প্রদায়ের অংশ হওয়া মানে একা নয়, যা তার নতুন বিশ্বাসকে দৃঢ় করে।

ব্রিটেনে ধর্মীয় দৃশ্যপটের পরিবর্তন বহু বছর ধরে আলোচনা হয়ে আসছে। পূর্বে অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন, তবে সাম্প্রতিক দশকে নাস্তিকতা এবং বহুমতবাদী সমাজের উত্থান ঘটেছে; ফলে অনেক পুরনো গির্জা বিক্রি হয়ে ককটেল বার বা উচ্চমানের ফ্ল্যাটে রূপান্তরিত হয়েছে।

২০২৫ সালে বাইবেল সোসাইটি ‘দ্য কুইয়েট রিভাইভাল’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রকাশ করে, যা ইউগো ভৌত অনলাইন জরিপের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের জেনারেশন জেডের গির্জা উপস্থিতি গত ছয় বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন্য আশাব্যঞ্জক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হয় এবং গির্জাগুলি তরুণদের ‘যীশুর দিকে ফিরে আসা’ সম্পর্কিত নিজস্ব তথ্য উপস্থাপন করে। একই সঙ্গে খ্রিস্টীয় সংগঠনগুলো এই ‘শান্ত পুনর্জাগরণ’কে আরও দৃশ্যমান করতে কীভাবে প্রচার বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।

গত সেপ্টেম্বর গিল্ডফোর্ড ডায়োসিস একটি সম্মেলন আয়োজন করে, যার শিরোনাম ‘শান্ত পুনর্জাগরণে শব্দ বাড়ানো’। এতে প্রায় ছয়শত অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন এবং তাতে এই প্রবণতাকে ‘একটি বৃহৎ, কিন্তু নীরব, আধ্যাত্মিক আন্দোলন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তরুণদের ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষা কীভাবে সমর্থন করা যায়, তা নিয়ে ধারণা শেয়ার করেন।

এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, যদিও সামগ্রিকভাবে ব্রিটেনে ধর্মীয় অনুশীলন হ্রাসের প্রবণতা ছিল, তবু নতুন প্রজন্মের মধ্যে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান পুনরায় উত্থান লাভ করছে। বিশেষ করে জেনারেশন জেডের মধ্যে গির্জা পরিদর্শনের হার বাড়ার ফলে ভবিষ্যতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পুনর্নির্ধারণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তরুণদের মানসিক ও নৈতিক দিক থেকে সমর্থন প্রদান করতে পারে এবং সম্প্রদায়ের সংহতি বাড়াতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে, ধর্মীয় সংস্থাগুলোকে আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তরুণদের পছন্দের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তাদের কার্যক্রম পুনর্গঠন করতে হবে।

সারসংক্ষেপে, জে পেইন্টার-এর ব্যক্তিগত ধর্মান্তর এবং সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল একসঙ্গে দেখায় যে, ব্রিটেনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় পুনরুত্থান একটি বাস্তব এবং জটিল প্রক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে ধর্মীয় নীতি ও সমাজের কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments