রেডি-টু-গো শটডাউনগুলো রবিবারের শেষ মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল, যখন স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপের শিরোপা লড়াইয়ে রেঞ্জার্স ও কেল্টিক দুজনেই হার্টসের থেকে পয়েন্ট হারিয়ে পিছিয়ে গেল। রেঞ্জার্স লিভিংস্টনকে ২-২ ড্র করে দু’পয়েন্ট হারাল, আর কেল্টিক হিবার্নিয়ানের কাছে ১-২ হারে পরাজিত হয়ে শিরোপা শীর্ষে হার্টসের দূরত্ব বাড়িয়ে দিল।
রেঞ্জার্সের ম্যাচটি ওয়েস্ট লোথিয়ানের লিভিংস্টনে অনুষ্ঠিত হয়। গেমের শুরুর ১৪তম মিনিটে লিভিংস্টনের ফরাসি ডিফেন্ডার ব্রুকলিন কাবোঙ্গো একটি চমৎকার ভলিতে প্রথম গোল করেন, যা হোস্টকে ১-০ এগিয়ে দেয়। গেমের মাঝামাঝি সময়ে, ৫৫তম মিনিটে লুইস স্মিথ দ্বিতীয় গোল করে স্কোরকে ২-০ করে তোলেন, ফলে রেঞ্জার্সের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
গেমের এক ঘণ্টা পর, রেফারি রায়ান লি ক্রিস্টিয়ান মন্টানোকে লিভিংস্টনের ডিফেন্ডার হিসেবে রেড কার্ড দেখিয়ে বের করে দেন, কারণ তিনি রেঞ্জার্সের আক্রমণকারী ডেজি গাসামার গোলিং সুযোগ রোধ করার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার ফলে লিভিংস্টন ১০ জন খেলোয়াড়ে কমে যায়, তবে তবুও তারা সাময়িকভাবে গেমের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।
রেঞ্জার্সের আক্রমণ তখন তীব্র হয়ে ওঠে। ৮১তম মিনিটে এম্যানুয়েল ফার্নান্দেজ বক্সের প্রান্ত থেকে একটি শক্তিশালী শট মারেন, যা গেমকে ২-১ করে তোলেন। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে, মিকি মুর ৮৮তম মিনিটে জেমস টাভার্নিয়ারের ক্রস থেকে হেডার দিয়ে সমান স্কোর করেন, ফলে স্কোর ২-২ হয়ে যায়।
গেমের শেষের দিকে, মিকি মুরকে ক্যামি ক্যার রিভারসাইডে ট্যাকল করে পেনাল্টি দাবি করা হয়, তবে VAR পর্যালোচনার পর কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। রেঞ্জার্সের সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা অতিরিক্ত সময়ে কোনো অতিরিক্ত গোল করতে পারেনি, ফলে দু’পয়েন্টের বদলে এক পয়েন্টই পায়।
অন্যদিকে, কেল্টিকের মুখোমুখি হয় হিবার্নিয়ান। গেমের প্রথমার্ধে হিবার্নিয়ানের ফিলিক্স পাসল্যাক ৪৫তম মিনিটে গলে কেল্টিকের গোলরক্ষককে চমকে দেয়, ফলে হিবার্নিয়ান ১-০ এগিয়ে যায়। কেল্টিক তৎক্ষণাৎ পাল্টা আক্রমণে লাফ দেয়; বেনজামিন নায়গ্রেন ডিভিং করে নিকি ক্যাডেনের প্রথম-টাইম ক্রসকে হেড করে সমান স্কোর করে, যা হাফটাইমের শেষের দিকে ঘটে।
কেল্টিকের খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন লাল কার্ড পায়, ফলে দলটি ১০ জনে খেলতে বাধ্য হয়। তবে হিবার্নিয়ানও সহজে হাল ছাড়ে না। ৮৭তম মিনিটে হিবার্নিয়ানের সাবস্টিটিউট কাই অ্যান্ড্রুজ বক্সের প্রান্ত থেকে একটি সুশৃঙ্খল শট মারেন, যা নীচের কোণায় গিয়ে গেমের চূড়ান্ত গোল হয়ে ওঠে। এই গোলের ফলে হিবার্নিয়ান ২-১ জয়ী হয় এবং কেল্টিকের শিরোপা লড়াইয়ে হার্টসের থেকে দূরে সরে যায়।
এই ফলাফলগুলো স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপের শিরোপা শীর্ষে হার্টসকে আরও বড় সুবিধা দেয়। রেঞ্জার্সের ড্র এবং কেল্টিকের পরাজয় দুজনেই পয়েন্ট হারিয়ে হার্টসের পিছনে পড়ে। শিরোপা দৌড়ে এখন হার্টসের নেতৃত্ব স্পষ্ট, আর রেঞ্জার্স ও কেল্টিককে পরবর্তী ম্যাচে পয়েন্ট সংগ্রহ করে গ্যাপ কমাতে হবে।
রেঞ্জার্সের পরবর্তী ম্যাচে তারা হোম গ্রাউন্ডে ডারবির মুখোমুখি হবে, যেখানে শিরোপা শীর্ষে ফিরে আসার জন্য তীব্র জয় দরকার। কেল্টিকের পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে আরেকটি শক্তিশালী দল, যা তাদের পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে। উভয় দলই এখন শিরোপা শীর্ষে হার্টসের থেকে দূরত্ব কমাতে তীব্রতা বাড়িয়ে খেলতে হবে।
শিরোপা লড়াইয়ের এই নাটকীয় মুহূর্তগুলো স্কটিশ ফুটবলের ভক্তদের জন্য উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, এবং পরবর্তী রাউন্ডে কী ঘটবে তা এখন সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রে।



