ফুলহ্যাম এবং সান্ডারল্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লীগ ম্যাচে, ফুলহ্যামের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার আলেক্স ইওবির সূক্ষ্ম চিপ শট শেষ মুহূর্তে সান্ডারল্যান্ডের গল পোস্টে গিয়ে জয় নিশ্চিত করে। রাউল জিমেনেজের দু’গোল, একটি হেডার এবং একটি পেনাল্টি, দলের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রাউল জিমেনেজের হেডার গোলের পর, সান্ডারল্যান্ডের মিডফিল্ডার এনজো লে ফে পেনাল্টি নেয় এবং স্বল্প সময়ের জন্য স্কোর কমিয়ে দেয়। তবে ফুলহ্যামের রক্ষাকারী রোমেইন মন্ডল এবং নিলসন অ্যাঙ্গুলোর দু’টি স্পষ্ট সুযোগ মিস হওয়ায় সান্ডারল্যান্ডের প্রত্যাশা পূরণ হয় না।
আলেক্স ইওবির চিপ শটের পর, গোলের পরিসর বাড়িয়ে ফুলহ্যাম ২-১ স্কোরে সান্ডারল্যান্ডকে পরাজিত করে। এই জয় দিয়ে দল তিন ম্যাচের ধারাবাহিক পরাজয় শেষ করে, যা কোচ মার্কো সিলভার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। অন্যদিকে, সান্ডারল্যান্ডের জন্য এটি শেষ বসন্তের প্লে-অফ ফাইনাল জয়ের পর প্রথম বড় দৌড়ের ঝাঁকুনি, যেখানে দলটি খোলা মাঠে গোল করার সমস্যায় পড়েছে।
সিলভা দলের আক্রমণাত্মক শৈলীতে পরিবর্তন আনার জন্য তিনি প্রারম্ভিক ১১ খেলোয়াড়ে বেশী আক্রমণাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করেন। তবে নতুন কৌশলটি সম্পূর্ণ সুষম না হয়ে দেখা যায়, কারণ মাঝখানে কিছু ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
সান্ডারল্যান্ডের জানুয়ারি মাসে দুই নতুন সই করা খেলোয়াড়, জোসেলিন এবং অ্যাঙ্গুলো, দলের গঠনকে প্রভাবিত করে। ইকুয়েডরের আন্তর্জাতিক অ্যাঙ্গুলো অ্যান্ডারলেচ থেকে আসেন, আর আইভোরীয় জোসেলিন ম্যাকাবি নেটানিয়া থেকে আসলেও প্রথম দলে কোনো ম্যাচে না খেলেই ইসরায়েল দ্বিতীয় বিভাগে ঋণ নিয়ে খেলেছেন।
দুইজন উইঙ্গার পারফরম্যান্সে কখনো হুমকি, কখনো অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ঝুঁকি দেখা দেয়। জোসেলিনের ডেবিউ মাত্র ৩৯ মিনিটে একটি আঘাতের কারণে শেষ হয়, ফলে মন্ডল তাকে বদলে মাঠে নামেন। এই পরিবর্তন সান্ডারল্যান্ডের আক্রমণাত্মক বিকল্পকে সীমিত করে।
ফুলহ্যামের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার নর্ডি মুকিয়েলেও ক্যালফে ব্যথা অনুভব করে মাঠ ছেড়ে যান, এবং ডান ব্যাকের স্থানে লুটশারেল গিরট্রুইডা প্রতিস্থাপিত হন। এই পরিবর্তন সান্ডারল্যান্ডের রক্ষার কাঠামোকে সাময়িকভাবে অস্থিতিশীল করে, তবে তারা লে ফে এবং নোয়া সাদিকির মিডফিল্ডের দক্ষতা ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম হয়।
সান্ডারল্যান্ডের মিডফিল্ডার লে ফে এবং সাদিকির সমন্বয়পূর্ণ খেলা ফুলহ্যামের আক্রমণকে কিছুটা ধীর করে, তবে শেষ পর্যন্ত তারা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। সিলভার মুখের ভঙ্গি ম্যাচের সময় বাড়তে থাকা হতাশা প্রকাশ করে, যা শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
পরবর্তী ম্যাচে ফুলহ্যাম প্রি-সিজন শেষের দিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হবে, যেখানে জয় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য থাকবে। সান্ডারল্যান্ডের জন্য পরবর্তী ম্যাচে গোলের সমস্যার সমাধান এবং রক্ষণশক্তি শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যাতে তারা লিগে তাদের অবস্থান রক্ষা করতে পারে।



