23.8 C
Dhaka
Monday, February 23, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসে নেতাকর্মীর অনুপস্থিতি স্পষ্ট

বিএনপি কেন্দ্রীয় অফিসে নেতাকর্মীর অনুপস্থিতি স্পষ্ট

বিএনপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীর উপস্থিতি হ্রাস পেয়ে অফিস শূন্য অবস্থায় দেখা দিয়েছে, রোববার দু’বারের পরিদর্শনে এই অবস্থা নিশ্চিত হয়েছে।

দুই দশক পর যখন দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করল, তখন থেকে অফিসের অভ্যন্তরে অচেনা শূন্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন দপ্তরের ত্রিশতলা ভবনে এখন প্রায়ই কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন, কারণ উচ্চপদস্থ নেতাদের উপস্থিতি নেই।

রোববার সকাল ১১টা এবং দুপুর ২:৩০ টায় দুই দফা করে অফিসে গিয়ে দেখা গেল, তৃতীয় তলায় কোনো নেতা বা কর্মী নেই, সবই খালি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা বিএনপি কর্মী তৌবেরক হোসেন বললেন, “আমি পার্টি অফিসে এসেছি, কিন্তু কেউ নেই। তিনতলায় গিয়ে দেখলাম সব ফাঁকা, খাঁখাঁ করেছে। দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে, এখন যদি দলের এই দশা হয়, নেতারা যদি নয়াপল্টনের অফিসের ঠিকানা ভুলে যান, তাহলে আমরা যাব কোথায়?”

অফিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বললে জানা গেল, দলের নেতারা এখন আর কার্যালয়ে আসেন না। একজন কর্মী উল্লেখ করলেন, “আগে দেখা যেত, সকাল, বিকাল, সন্ধ্যায় কোনো না কোনো নেতা থাকতেন।”

দপ্তরের আরেকজন কর্মকর্তা জানালেন, “দপ্তরের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্যার অসুস্থ, তাই অফিসে আসছেন না। সরকার গঠনের পর নেতারা না আসায়, কর্মীরাও কমে এসেছে। আমরা একরকম এতিম হয়ে গেছি।”

নেতাকর্মীর অনুপস্থিতি কর্মীদের কাজের পরিমাণেও প্রভাব ফেলেছে। একজন কর্মী বললেন, “নেতারা না আসায় এখন কেটলিতে গরম পানির চিন্তা করতে হয় না, চা দেওয়ারও ডাক পড়ে না। গত দুই দিন রমজান চলছে, আমরা সবাই রোজাদার, আগে কমবেশি ‘একটা চা নিয়ে আসো’ এমন ডাক শোনা যেত।”

সিকিউরিটি কর্মীরা জানালেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন, এরপর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন। সেদিন নেতারা না এলেও কর্মীদের অনেকেই অফিসে উপস্থিত ছিলেন, তবে শপথের পর থেকে অফিসে কোনো নেতা দেখা যায় না।

শাহবাগের ফুল বিক্রেতা ও বিএনপি সমর্থক কলিম উদ্দিন বলেন, “আমি শাহজাহানপুর কলোনিতে সাবলেট থাকি, প্রতিদিন অফিসের কাছ দিয়ে যাই। গত ১৬-১৭ বছর দেখেছি অফিসে নেতাকর্মীর ভিড় থাকে। নেতাদের গাড়ি অফিসের সামনে দেখা যেত, কিন্তু গত কয়েকদিনে কর্মী সেভাবে পাওয়া যায় না।”

দপ্তরের দায়িত্বে থাকা জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একজন কর্মী জানালেন, “স্যার এখন বাড়িতে আছেন, কারো সঙ্গে কথা বলছেন না।”

অফিসের শূন্যতা দলীয় সংগঠনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ নেতাদের উপস্থিতি না থাকলে কর্মীদের মনোবল ও দায়িত্ববোধ কমে যায়।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, শূন্য অফিসের অবস্থা পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নীতি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তবে দলটি এই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে পার্টির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments