রবিবার বিকাল, ২২ ফেব্রুয়ারি, কক্সবাজারের চকরিয়া থানার বদরখালী এলাকায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় আট বছর বয়সী মোহাম্মদ খালেদ বিন ওয়ালিদের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনায় একই গাড়ি বহরে থাকা অন্য একটি গাড়ি শিশুটিকে আঘাত করে, ফলে দুইজন আহত হয়। গাড়ি বহরটি কুতুবদিয়ার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে মহেশখালী থেকে কুতুবদিয়া পথে চলছিল, যেখানে এমপি আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের গাড়ি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মোহাম্মদ খালেদ ওয়ালিদ বদরখালী ইউনিয়নের তেচ্ছিপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমানুল ইসলামের ছেলে, স্থানীয় নুরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। তার পরিবার জানায়, শিশুটি দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে গাড়ির পাশে খেলছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাড়ি বহরটি আহমেদ কবিরের ঘাটা এলাকায় পৌঁছালে, বহরের তৃতীয় গাড়ি হঠাৎ করে ওয়ালিদের দিকে ঝুঁকে যায় এবং তার ওপর চাপা দেয়। গাড়ির গতি ও গতি হ্রাসের ফলে শিশুটি গাড়ির নিচে আটকে যায়, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর আঘাত পায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর, উপস্থিত চিকিৎসক শিশুটির শ্বাস বন্ধের কারণে মৃত ঘোষণা করেন। একই সময়ে, দুজন অন্য গাড়ি চালক ও যাত্রী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
দুর্ঘটনা সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে, আশেপাশের কিছু বাসিন্দা গাড়িটিকে ভাঙচুরের লক্ষ্য বানায়। গাড়ি ভাঙতে শুরু করার পর, এমপি আলমগীর ফরিদের সমর্থকরা গাড়ি থেকে তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং স্থানীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
চকরিয়া থানার ওয়েস্টার্ন চিফ ইনস্পেক্টর মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, “সংসদ সদস্যের গাড়িতে নয়, বহরে থাকা অন্য গাড়ির চাপায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত চালু রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিক ও চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর, এমপি আলমগীর ফরিদ নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছেছেন। তিনি মোবাইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন, “আমার গাড়িতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি, অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। আমি ঠিক আছি।” তার এই বক্তব্যের পরেও, স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোক ও রোষের মিশ্র অনুভূতি দেখা যায়।
আলমগীর ফরিদ ১২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার-২ (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) আসন থেকে আবারও বিএনপি (বিএনপি) ত্রিপক্ষীয় প্রতীকসহ তৃতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ে, তবে এই দুর্ঘটনা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্তের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে গাড়ি বহরের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরে, একই রকম ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।



