ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে চীন, ভারত এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতরা পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকগুলো রবিবার অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশের জন্য অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিটি রাষ্ট্রদূত আলাদা সময়ে মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বাংলাদেশ সরকারের নতুন দিকনির্দেশনা সম্পর্কে তাদের মতামত জানিয়ে দেন। মন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকগুলোতে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূতরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচনের ফলাফল ও নতুন সরকারের গঠনের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।
তারা সাম্প্রতিক নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা তুলে ধরে এটিকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে বর্ণনা করেন। এই মূল্যায়ন নতুন সরকারের বৈধতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দিকে ইঙ্গিত করে।
ড. খলিলুর রহমান পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে যৌথ প্রকল্প ও উদ্যোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া তিনি জোর দিয়ে বলেন যে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার। এই দৃষ্টিভঙ্গি অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংহতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।
বৈঠকের সময় তিনজন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও আলাপ করেন। তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করার প্রস্তাব দেন।
রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশ সরকারের নতুন নীতিমালা ও কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন যে নতুন সরকার উভয় দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ত্বরান্বিত করতে ইচ্ছুক।
বৈঠকে উভয় পক্ষই বিভিন্ন ক্ষেত্র—যেমন বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সংস্কৃতি—এ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও নির্দিষ্ট প্রকল্পের উল্লেখ না থাকলেও ভবিষ্যতে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ পায়।
এই সাক্ষাৎকারগুলো নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার সংকেত দেয়। কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করে আঞ্চলিক সংহতি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা লক্ষ্য।
পরবর্তী ধাপে মন্ত্রীর সঙ্গে অতিরিক্ত বৈঠক ও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে, আজকের বৈঠকগুলো নতুন সরকারের কূটনৈতিক অগ্রগতি ও দক্ষিণ এশিয়ার সমন্বিত উন্নয়নের প্রতি তার অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্কগুলোকে আরও দৃঢ় করার জন্য ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



