চীনের ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI) ক্ষেত্রটি গবেষণা পর্যায় থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। নতুন স্টার্ট‑আপগুলো ইমপ্ল্যান্টেবল এবং নন‑ইনভেসিভ উভয় ধরনের BCI পণ্য বাজারে আনার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে। সরকারী নীতি সমর্থন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বিস্তার এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এই গতিকে ত্বরান্বিত করছে।
ফিনিক্স পেং নামে এক উদ্যোক্তা এই প্রবণতার কেন্দ্রে আছেন; তিনি দুইটি BCI সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। নিউরোএক্সেস নামে ইমপ্ল্যান্টেবল ডিভাইস তৈরি করে, আর গেস্টালা নামের স্টার্ট‑আপের মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ড ভিত্তিক নন‑ইনভেসিভ BCI বিকাশে কাজ করছেন। উভয় প্রকল্পই চীনের স্বাস্থ্যসেবা বাজারে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করছে।
সিচুয়ান, হুবেই এবং ঝেজিয়াং প্রদেশগুলো ইতিমধ্যে BCI সেবার জন্য চিকিৎসা মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তির গতি বাড়াচ্ছে। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে রোগীরা বীমা কভারেজের মাধ্যমে BCI প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে, যা বাজারের চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পেংের মতে, ভবিষ্যতে BCI কেবল রোগের চিকিৎসা নয়, মানব ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি উল্লেখ করেন যে স্নায়ুবিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একে অপরের পরিপূরক, এবং দুটোই একসাথে কাজ করলে মস্তিষ্ক ও AI এর মধ্যে সরাসরি, উচ্চ ব্যান্ডউইডথ সংযোগ সম্ভব হবে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে BCI কে কার্বন‑ভিত্তিক মানব বুদ্ধিমত্তা ও সিলিকন‑ভিত্তিক মেশিন বুদ্ধিমত্তার মধ্যে সেতু হিসেবে দেখা হয়। পেংের অনুমান অনুযায়ী, এই সেতু ভবিষ্যতে অপ্রতিম আকারের বাজার তৈরি করবে, যদিও তা এখনো দূরের স্বপ্নের মতো শোনায়।
তবে পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে BCI প্রধানত স্বাস্থ্যসেবা খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে। বীমা কভারেজের বিস্তার এবং ক্লিনিক্যাল প্রমাণের উন্নতির ফলে বাজারের আকার বহু বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগস্ট ২০২৫-এ চীনের শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ছয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থা একটি জাতীয় রোডম্যাপ প্রকাশ করে। এই পরিকল্পনা ২০২৭ সালের মধ্যে প্রধান প্রযুক্তিগত মাইলস্টোন অর্জন, শিল্প মানদণ্ড স্থাপন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল গঠনকে লক্ষ্য করে। রোডম্যাপের মূল উদ্দেশ্য হল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক BCI কোম্পানি গড়ে তোলা এবং ছোট বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমর্থন করা।
পেংের বিশ্লেষণে চীনের দ্রুত অগ্রগতির চারটি মূল চালিকাশক্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমটি হল শক্তিশালী নীতি সমর্থন, যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ দেখা যায়। দ্বিতীয়টি হল ক্রস‑ডিপার্টমেন্ট সহযোগিতা, যা গবেষণা ও বাণিজ্যিকীকরণকে একত্রিত করে। তৃতীয়টি হল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বিস্তার, যা নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। চতুর্থটি হল বিনিয়োগকারীদের বাড়তে থাকা আগ্রহ, যা স্টার্ট‑আপের জন্য তহবিল সরবরাহে সহায়তা করে।
এই সমন্বিত প্রচেষ্টা চীনের BCI শিল্পকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে এবং মানব মস্তিষ্ক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনতে পারে।



