মির আহমদ বিন কাসেম আরমান, সম্প্রতি নির্বাচিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পার্লামেন্টারী, নাগদের আর্থিক পুনর্গঠনে নতুন মূলধন আনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সময়ে নাগদকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। আরমান ৮ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় পার্লামেন্টারী নির্বাচনের তিন দিন আগে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি চিঠি লিখে অডিটের অনুমতি চেয়েছেন, যাতে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা যাচাই করে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ভিত্তি স্থাপন করা যায়।
মির আহমদ বিন কাসেম আরমান, মৃত জামাত নেতা মির কাসেম আলীর পুত্র, এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ২০১৬ সালে মিরপুরে তার পিতার আইনি দলকে সমর্থন করার সময় আটক হন এবং প্রায় আট বছর ধরে আওয়ামী লীগ শাসনের অধীনে নিখোঁজ ছিলেন। ৬ আগস্ট ২০২৪, হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই তিনি মুক্তি পান। ব্রিটেনে আইনশিক্ষা সম্পন্ন আরমান, “আয়নাঘর” নামে পরিচিত কারাগারে বহু বছর কাটিয়েছেন, যেখানে বন্দীরা দীর্ঘ সময় কোনো সহবন্দীর সঙ্গে দেখা পাননি।
অধিকন্তু, আরমান নিজেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু বহুজাতিক বিনিয়োগ সংস্থার স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংস্থাগুলি নাগদের কার্যক্রমের গভীর বিশ্লেষণ করতে অডিটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে, যাতে বিনিয়োগের উপযুক্ততা নির্ধারণ করা যায়। তিনি বিনিয়োগকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন এবং দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার বিস্তারে অবদান রাখতে চান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রেরিত চিঠিতে আরমান উল্লেখ করেন, তিনি ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স পেতে এবং বৈশ্বিক আর্থিক খাতে প্রবেশের জন্য উদীয়মান প্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, এই দৃষ্টিভঙ্গি তার পিতার আদর্শ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এবং দেশের জনগণের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, ডিজিটাল ও টেকসই আর্থিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। চিঠিতে তিনি ইতিমধ্যে কিছু বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনার সূচনা করেছেন, যারা এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
নাগদের বর্তমান অবস্থা, যা একসময় মোবাইল আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে অগ্রণী ছিল, এখন প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছে এবং তার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান। আরমানের অডিটের অনুরোধ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাজারে ইতিবাচক সিগন্যাল পাঠাতে পারে, বিশেষ করে ডিজিটাল পেমেন্ট সেক্টরে নতুন মূলধন প্রবাহের সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ছাড়া কোনো বিনিয়োগের বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
বিনিয়োগ সংস্থাগুলি যদি অডিটের মাধ্যমে নাগদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও ঝুঁকি মূল্যায়ন করে সন্তোষজনক ফলাফল পায়, তবে তারা মূলধন সঞ্চয়, প্রযুক্তি আপগ্রেড এবং গ্রাহক সেবার উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মোবাইল পেমেন্টের ব্যবহার বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, অডিটে যদি গুরুতর আর্থিক ঘাটতি বা নিয়ন্ত্রক লঙ্ঘন প্রকাশ পায়, তবে বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ধীরগতি পাবে।
সারসংক্ষেপে, জামাতের নতুন এমপি আরমানের উদ্যোগ নাগদের পুনরুজ্জীবনে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও স্বচ্ছ অডিট ফলাফল অপরিহার্য। ভবিষ্যতে যদি বিদেশি বিনিয়োগের আগ্রহ বজায় থাকে, তবে নাগদের ডিজিটাল ব্যাংকিং মডেল পুনর্গঠন এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং বাজারের স্বীকৃতি ছাড়া কোনো বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা সীমিত থাকবে।
এই প্রেক্ষাপটে, আরমানের অডিটের অনুরোধ এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা দেশের ডিজিটাল আর্থিক সেবার পুনরায় উত্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।



