ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুকের 27তম জন্মদিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে 51 রানের বড় জয় অর্জিত হয়েছে। রবিবার অনুষ্ঠিত ২০ ওভারের টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ড 146 রান করে লক্ষ্য স্থির করে, আর শ্রীলঙ্কা মাত্র 95 রানে আটকে যায়। এই জয়কে ব্রুক তার জন্মদিনের উপহার বলে উল্লেখ করেছেন।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন‑আপ ২০ ওভারে 146 রান তৈরি করে, যা শ্রীলঙ্কার লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে যায়। শ্রীলঙ্কা ৯৫ রানে আটকে গিয়ে পুরো ইনিংস শেষ করে, ফলে ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত হয়। উভয় দলে একাধিক উইকেট পড়লেও ইংল্যান্ডের বোলাররা ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে দমন করে।
ইংল্যান্ডের বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। স্পিনারদের গতি ব্যবহার করে তারা শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের ওপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট সংগ্রহ করে। ক্যাপ্টেন ব্রুকের মতে, উইকেটের সংখ্যা ভয়ঙ্কর না হলেও, স্পিনারদের গতি নিয়ন্ত্রণই বেশি উইকেটের মূল কারণ। প্রথম ইনিংসে গতি কম থাকায় শ্রীলঙ্কা ব্যাটসম্যানদের সুযোগ তৈরি হয়, যা ইংল্যান্ডের বোলারদের কাজে লেগে যায়।
ব্রুকের নেতৃত্বে দলটি আগ্রাসী ক্রিকেটের বার্তা দিয়েছে, যদিও প্রথম ম্যাচে উইকেটের সংখ্যা তেমন না বাড়ে। তবে বোলারদের চমৎকার পারফরম্যান্সের ফলে ইংল্যান্ডকে বড় জয় অর্জন করতে সহায়তা করে। ক্যাপ্টেনের মতে, স্পিনারদের গতি ব্যবহারই উইকেটের মূল চালক, যা শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে দুর্বল করে।
ব্রুকের জন্মদিনে এই জয়কে তিনি বিশেষ উপহার হিসেবে স্বীকার করেছেন। “এই জয়ই আমার জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার,” তিনি বলেন। তার এই মন্তব্য দলীয় মনোবল বাড়িয়ে দেয় এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জোরদার করে।
এই জয়ের আগে, চলতি মাসের শুরুর দিকে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইংল্যান্ড শ্রীলঙ্কাকে ১২৮ রানে সীমাবদ্ধ করে ১১৬ রানে অলআউট করেছিল। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ১২৮ রানে শেষ হলেও, বোলিং পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের দ্রুত আউট করে দেয়। সিরিজের মোট স্কোরে ইংল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায়, দুই দলের সম্মিলিতভাবে ৩০ রানের বেশি স্কোর করতে পারে কেবল একজন ব্যাটসম্যান। ইংল্যান্ডের ওপেনার ফিল সল্ট ৪০ বলে ছয়টি চার এবং দুইটি ছক্কা মারিয়ে ৬০ রান তৈরি করেন। তার এই ইনিংসই একমাত্র ৩০ রানের বেশি স্কোর, যা দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যাপ্টেন ব্রুক ফিল সল্টের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে বলেন, “সাল্টি আজ অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন, ৬০ রান দিয়ে দলকে শক্তিশালী শুরুর সুযোগ দিয়েছেন। যদিও তিনি সাধারণত যে ভাবে পরিচিত, আজ তিনি আমাদের জন্য ভিন্ন রকমের স্কোর এনে দিয়েছেন এবং বেশ কিছু জুটি গড়ে তুলেছেন।” এই প্রশংসা সল্টের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইংল্যান্ডের এই ধারাবাহিক জয় সিরিজের সম্পূর্ণ জয়কে নিশ্চিত করে। তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়ে দলটি শ্রীলঙ্কার ওপর সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে দলটি আক্রমণাত্মক কৌশল এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং দিয়ে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
সার্বিকভাবে, ইংল্যান্ডের ব্যাটিং এবং বোলিং উভয়ই সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। ফিল সল্টের আক্রমণাত্মক ইনিংস, বোলারদের ধারাবাহিক উইকেট, এবং ক্যাপ্টেনের স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এই জয়ের মূল কারণ। শ্রীলঙ্কা যদিও কিছু মুহূর্তে প্রতিরোধ দেখিয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের সামগ্রিক পারফরম্যান্সই তাদেরকে পরাজিত করেছে।
এই জয় ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি সিরিজে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ক্যাপ্টেন হ্যারি ব্রুকের জন্মদিনে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে রয়ে যাবে। দলটি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে শ্রীলঙ্কার ওপর আধিপত্য বজায় রেখেছে, এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের প্রত্যাশা করা যায়।



