23.8 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধআশুলিয়ায় ১০ বছর বয়সী গৃহকর্মীর নির্যাতনের অভিযোগে ডা. জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার

আশুলিয়ায় ১০ বছর বয়সী গৃহকর্মীর নির্যাতনের অভিযোগে ডা. জাহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তার

সাভার জেলার আশুলিয়া থানা রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জানায়, গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা ১০ বছর বয়সী ছামিয়া আক্তারের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে গৃহচিকিৎসক ডা. জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, ডা. জাহিদুল ও তার স্ত্রী ডা. মারিয়া আক্তার একত্রে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন।

গ্রেফতারটি শনিবার রাতেই ঘটেছে; আশুলিয়ার ফাল্গুনী হাউজিংয়ের এক শান্তিপূর্ণ বাড়ি থেকে পুলিশ দল তাকে আটক করে। গ্রেফতারকৃত ডা. জাহিদুল ইসলাম সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক হাসপাতালের চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী ডা. মারিয়া আক্তার গ্রেফতারের পর থেকে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

শিশুটির নাম ছামিয়া আক্তার, বয়স দশ বছর, এবং তিনি পাবনা জেলার মোঃ রজ্জব আলির মেয়ে। তার মা গৃহকর্মীর মা হিসেবে জানিয়েছেন যে, ছামিয়া প্রায় এক বছর ধরে ডা. জাহিদুলের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। প্রথম মাসে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল, তবে পরের মাস থেকে শিশুর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হয়।

মা জানান, নির্যাতনের মধ্যে গরম খুন্তি দিয়ে জিহ্বায় ছেঁড়া, শারীরিক আঘাত এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর আচরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, শিশুটি ১১ মাস ধরে ডা. জাহিদুলের বাড়িতে কাজ করছিল, তবে প্রথম মাসের পর থেকে স্বামী-স্ত্রী একসাথে শিশুর ওপর অমানবিক আচরণ চালিয়ে আসছেন।

আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার উল্লেখ করেন, শিশুর মা গৃহকর্মীর মা হিসেবে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নির্যাতনের সব ধরণ ও ঘটনার সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে, এবং প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডা. জাহিদুল ইসলামকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিম্যান্ডের সময়কালে তাকে জেলখানায় রাখা হবে এবং মামলার অগ্রগতি অনুসারে অতিরিক্ত শাস্তি নির্ধারিত হতে পারে। আদালত থেকে রিম্যান্ডের আদেশ পাওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা মামলার বিশদে নজর দেবেন।

ডা. মারিয়া আক্তার পলাতক হওয়ায়, তার অবস্থান জানার জন্য পুলিশ বিশেষ অনুসন্ধান চালু করেছে। তিনি যদি গ্রেফতার হন, তবে তার ওপরও একই ধরনের আইনি প্রক্রিয়া প্রয়োগ হবে। বর্তমানে, তার গৃহস্থালির সম্পত্তি ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা শিশুর ওপর নির্যাতন বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা আইনের অধীনে কঠোর শাস্তির যোগ্য। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, শিশুর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি ঘটানো অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। আদালত এই মামলায় প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ শাস্তি নির্ধারণ করবে।

পরবর্তী তদন্তে, থানা ও সংশ্লিষ্ট সামাজিক সেবা বিভাগ একসাথে কাজ করবে। শিশুর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হবে এবং শিশুটিকে নিরাপদ পরিবেশে স্থানান্তর করা হবে। মামলার অগ্রগতি ও আদালতের রায় প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে জানানো হবে।

এই ঘটনা সমাজে গৃহকর্মী শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে পুনরায় আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments