25 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপ্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুইদিনের সরকারি সফরে ইসরায়েলে যাচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুইদিনের সরকারি সফরে ইসরায়েলে যাচ্ছেন

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দিনব্যাপী সরকারি সফরে ইসরায়েল গন্তব্যে রওনা হবেন। সফরটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নির্ধারিত এবং ২০১৭ সালে তিনি প্রথমবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন।

২০১৭ সালের সফরে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা দেখা গিয়েছিল, তবে তা মূলত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমান সফরে উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত, যা পূর্বের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ দেবে।

ইজরায়েলি সরকার প্রধান বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক জোটকে আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই সফর উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থের সমন্বয় ঘটাবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়াবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল কর্তৃক পশ্চিম তীরের অধিকৃত ভূমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে তেল আবিবের নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রায় ১০০টি দেশ, যার মধ্যে ভারতও অন্তর্ভুক্ত, ইজরায়েলি সরকারকে নিন্দা জানিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র সমালোচনা দেখা গিয়েছে, তবে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূলধারা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

বছরের পর বছর ধরে ইজরায়েলি সরকার এবং ভারত নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়িয়ে চলেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’দেশের যৌথ গবেষণা প্রকল্প, সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং উচ্চ প্রযুক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

একই সঙ্গে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করে আসছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে। যদিও এই নীতি ও ইজরায়েলি সরকারের মধ্যে কিছু দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে, তবু দু’দেশের সম্পর্কের মূল স্তম্ভে কোনো বড় পরিবর্তন ঘটেনি।

সফরের সময় নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা কম বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই MoU-তে তথ্য শেয়ারিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং সীমান্ত রক্ষার ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

বিশ্লেষক সূত্র অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে ইজরায়েলি সরকার এবং ভারতের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আর্থিক পরিমাণ প্রায় দশ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমমান হতে পারে। ইজরায়েলি সরকার ইতিমধ্যে ভারতকে সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সরবরাহের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইজরায়েলি সরকারের সাম্প্রতিক আক্রমণকে পটভূমি করে এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে, মোদির সফর ইজরায়েলি সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি গ্লোবাল নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ভারতের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে।

ভবিষ্যতে এই সফরের ফলাফল ভারতের পররাষ্ট্র নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে, উচ্চ প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে দেশীয় শিল্পের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে।

মোদি দুই দিনের সফরে ইজরায়েলি সরকার কর্তৃক আয়োজিত বিভিন্ন সম্মেলন, ব্যবসায়িক মিটিং এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নেবেন। সফরের শেষ দিনে উভয় পক্ষের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের স্বাক্ষর প্রত্যাশিত, যা পরবর্তী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments