সাখিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যৌথ সাধারণ সম্পাদক জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীরকে গতকাল বাস দাহের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ঢাকা‑তাঙ্গাইল মহাসড়কের বাওই খোলা, বাসাইল উপজেলার এলাকায় গত নভেম্বর মাসে চলমান একটি যাত্রী বাসে আগুন লাগানোর অভিযোগে আটক হয়েছেন।
গ্রেফতারটি সাখিপুর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ হেলাল উদ্দিনের নির্দেশে করা হয়। জাহাঙ্গীরকে সাখিপুর পৌরসভার উত্তরা চৌরাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বাসাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরের পর তিনি আদালতে পাঠানো হয়।
দাহকাণ্ডটি ১২ নভেম্বর, ২০২৫ রাত প্রায় একটায় ঘটেছিল। অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি বাসের সামনে গ্যাস সিলিন্ডার ফাটিয়ে যাত্রী বাসে আগুন লাগিয়ে দমিয়ে ফেলেছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গাড়ি ও পথচারীরা তৎক্ষণাৎ সাহায্য করতে গিয়ে আহত হয়।
দাহের ফলে একজন মহিলা যাত্রী গুরুতরভাবে আহত হন এবং ছয় দিন পর চিকিৎসাাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অন্যান্য যাত্রীদেরও শারীরিক ক্ষতি ও মানসিক আঘাতের রিপোর্ট পাওয়া গেছে।
পরবর্তী দিনই গোরাই হাইওয়ে থানা সিআই এস আইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থলে একটি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেন। মামলায় দাহের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের নাম উল্লেখ না করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঘটনা হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি সাখিপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শোকস্মরণে শোভাযাত্রা হিসেবে একটি শোভাযাত্রা রাখার কাজ করেন। এই শোভাযাত্রা সাখিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।
হেলাল উদ্দিন জানান, জাহাঙ্গীরকে উত্তরা চৌরাস্তা থেকে সরাসরি বাসাইল থানায় নিয়ে গিয়ে হস্তান্তর করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রেফতারটি প্রমাণভিত্তিক এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয়েছে।
বাসাইল থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ আলমগীর কবিরের মতে, দাহকাণ্ডে জড়িত অপরাধীরা গোপনীয়ভাবে কাজ করে বাসের গ্যাস সিলিন্ডারকে ফাটিয়ে আগুন ছড়িয়ে দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, দাহের সময় রাত একটায় বাসের গতি কমে যাওয়ায় দায়িত্বশীল ব্যক্তি দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে পারেননি।
মহিলা যাত্রীর মৃত্যু ঘটার পর পরিবারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি হওয়ায় ছয় দিন পরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গ্রেফতারকৃত জাহিদ ইকবাল জাহাঙ্গীরকে এখন আদালতে হাজির করা হবে। তিনি দাহের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন হিসেবে মামলায় উপস্থিত হয়ে তার দোষ-দোষারোপের বিষয়টি বিচারকের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।
অধিক তদন্তের জন্য পুলিশ দল ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহ চালিয়ে যাচ্ছে। দাহের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ, গ্যাস সিলিন্ডারের অবশিষ্টাংশ এবং সাক্ষীদের বিবৃতি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরবর্তী শুনানির তারিখ ও শর্তাবলী শীঘ্রই জানানো হবে। এই মামলায় জড়িত সকল পক্ষকে আইন অনুসারে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



