সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (এসসিবিএ) ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচন ১১ ও ১২ মার্চ নির্ধারিত হয়েছে। এই নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন নামটি উঠে এসেছে, যাকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সমর্থন দিচ্ছে। সুমন বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় থাকলেও তার প্রচারণা সক্রিয়ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী দুই দিনব্যাপী ভোটদান হবে, যেখানে সমিতির সদস্যরা সরাসরি ভোট দেবেন। পূর্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সমিতির অভ্যন্তরীণ গঠন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দেখা গিয়েছে, ফলে এইবারের নির্বাচনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ব্যারিস্টার সুমন বাংলাদেশের পরিচিত আইনজীবী এবং এককালীন সংসদ সদস্য। তিনি ১২তম জাতীয় সংসদে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট‑মাধবপুর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনকে কেন্দ্র করে বহু গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ করেছেন।
সুমন বর্তমানে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একাধিক মামলায় আটক আছেন। আদালতে চলমান মামলাগুলোতে তাকে জেল‑জুলুম, লুণ্ঠন এবং মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার জেলভুক্তি এখনও চলমান এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রচারক দল সুমনের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সমর্থকরা ক্যাম্পেইন মিটিং, পোস্টার বিতরণ এবং সামাজিক মাধ্যমে তার নাম প্রচার করে ভোটারদের কাছে তার ন্যায়বিচার রক্ষার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। যদিও তিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে পারছেন না, তবে তার আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি সমর্থকদের মধ্যে শক্তিশালী সাড়া পেয়েছে।
সমর্থকরা সুমনকে “অকুতোভয় জননেতা” বলে সম্বোধন করে, এবং তাকে জেল‑জুলুম, হিংসা ও মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে একমাত্র প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তারা দাবি করছেন, কারাগারের অন্ধকার কোণ থেকে তিনি আইনি অঙ্গনের মর্যাদা রক্ষার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, সমিতির কিছু সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুমনের কারাগারভিত্তিক প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা উল্লেখ করছেন, জেলভুক্ত অবস্থায় কার্যকরীভাবে সম্পাদকীয় দায়িত্ব পালন করা কঠিন হতে পারে এবং সমিতির স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে এই ধরনের প্রার্থী নির্বাচন উপযুক্ত কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
যদি সুমন নির্বাচনে সফল হন, তবে তার জেলভুক্তি ও আইনি চ্যালেঞ্জ সমিতির অভ্যন্তরীণ গঠন ও নীতি প্রণয়নে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। তার উপস্থিতি আইনজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত আলোচনাকে তীব্র করে তুলবে এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলগুলোর কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর, এসসিবিএ নতুন সম্পাদককে কেন্দ্র করে নীতি নির্ধারণ, সদস্য সেবা এবং আইনি সংস্কারের পরিকল্পনা গঠন করবে। একই সঙ্গে, সুমনের জেলভুক্তি সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে, যা দেশের আইনগত পরিবেশ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।



