সচেতন নাগরিক সমাজের (সিসিএস) সদস্যসচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের জন্য প্রেরিত স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন। তনি জানান, এই স্মারকলিপি সংগঠনের আহ্বায়ক নীলা ইসরাফিলের অনুরোধে এবং তার স্বাক্ষরিত লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠানো হয়েছে; তিনি নিজে এর রচয়িতা নন।
স্মারকলিপিটি মূলত জামায়াতের রাজনৈতিক নিবন্ধন বাতিলের দাবি তুলে ধরে এবং সরকারকে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানায়। তনি উল্লেখ করেন, নীলা ইসরাফিল ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত থাকতে পারছিলেন না, তাই তিনি সরাসরি তনির কাছে অনুরোধ করেন যাতে তিনি স্মারকলিপি পাঠিয়ে দেন। তনি এই কাজটি তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে সম্পন্ন করেছেন এবং কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি।
সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তনি ফেসবুকে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, নীলা ইসরাফিলের সরাসরি অনুরোধে তিনি স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন এবং তিনি নিজে এর লেখক নন। তনি বলেন, তিনি কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেননি, বরং সিসিএসের সংগঠনগত নির্দেশনা মেনে কাজ করেছেন।
স্মারকলিপি পাঠের পর থেকে তনি ও তার পরিবারকে বিভিন্ন রকমের হুমকি জানানো হচ্ছে। তনি জানান, তাকে প্রাণনাশের হুমকি, তার ব্যবসা বন্ধ করার হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন বুলিং, ট্রলিং এবং মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই হুমকিগুলোর মোকাবিলায় তনি ইতিমধ্যে স্থানীয় থানায় গৃহহীনতা ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মানহানিকর তথ্য প্রচারকারী ও অনলাইন হয়রানির জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাইবার আইনসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুসারে কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।
তনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ স্বাভাবিক, তবে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানি বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির কোনো স্থান নেই। তিনি সতর্ক করেন, যদি এই ধরনের হুমকি ও অনলাইন হয়রানি বন্ধ না হয়, তবে সর্বোচ্চ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি তনি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে হুমকি প্রদানকারী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ ও শাস্তি নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সিসিএসের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ঘটনাটির দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিসিএসের অন্যান্য সদস্যদেরও অনলাইন নিরাপত্তা ও মানহানিকর কন্টেন্টের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। তনি বলেন, সংগঠনটি সামাজিক মিডিয়ায় ভুল তথ্যের বিস্তার রোধে তথ্য যাচাই ও সচেতনতা প্রচারের জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে।
সামগ্রিকভাবে, রোবাইয়াত ফাতিমা তনি জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের স্মারকলিপি পাঠের পর তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে হুমকি নির্মূলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন, মতবৈচিত্র্য স্বাভাবিক হলেও হুমকি ও মানহানি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং সবার নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ অপরিহার্য।



