পঞ্চগড়ের চকলাহাট ইউনিয়নের দাঙ্গাপাড়া গ্রাম থেকে আসা ২৯ বছর বয়সী শারমিন আক্তার সাথিকে স্বামীর শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগে আজ সন্ধ্যায় জেলখানায় পাঠানো হয়। শারীরিক আঘাতের শিকার হলেন ৩৫ বছর বয়সী গোলাম মোস্তাফা, যিনি একই গ্রাম ও ইউনিয়নের বাসিন্দা। মামলাটি পঞ্চগড় সদর উপজেলা আদালতে শোনানো হয় এবং বিচারক ইব্রাহিম আলী, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, উপস্থিতি নিশ্চিত করে আদেশ দেন।
আদালতের আদেশে শারমিনকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে জেলখানায় রাখা হয় এবং মামলাটি পরবর্তী পর্যায়ে জেলা আদালতে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আদেশের সময় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর আদালতের সহকারী উপ-ইনস্পেক্টর মো. কাবুল হোসেন, যিনি একই সঙ্গে সাধারণ রেজিস্টার অফিসার (GRO) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবারের প্রাতঃরাশের আগে, যখন স্বামী ও তার পরিবার শেহরির পর শোবার ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। প্রায় সকাল ছয়টায় স্বামীর চিৎকার শোনা যায় এবং ঘরোয়া সদস্যরা দ্রুত তার কক্ষের দিকে ছুটে যায়। সেখানে তারা স্বামীকে রক্তপাতের অবস্থায় দেখতে পান এবং শারমিনকে দায়ী করে অভিযোগ তোলেন।
পঞ্চগড় সদর থানা থেকে তথ্য জানিয়ে বলেছে যে, স্বামীর পিতা সুজাউল হক একই দিনে থানায় গিয়ে শারমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, স্বামীকে প্রথমে পঞ্চগড় মডার্ন সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
শারমিনের গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে জেলখানায় স্থানান্তর করা হয়। ওসির মতে, গ্রেফতারকালে শারমিন কোনো স্পষ্ট কারণ বা উদ্দেশ্য প্রকাশ করেননি। তার কাছ থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কোনো প্রেরণা বা পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বামীর চিকিৎসা অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, রক্তপাতের পর তিনি জরুরি শল্যচিকিৎসা পেয়েছেন এবং বর্তমানে রংপুরের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণাধীন। চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্যের উন্নতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে।
আইনি দিক থেকে, শারমিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি এখন জেলখানার রেকর্ডে সংযুক্ত এবং পরবর্তী শুনানির জন্য জেলা আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। আদালতের আদেশে উল্লেখ আছে যে, প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত দলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সময়মতো আপডেট প্রদান করা হবে।
এই ঘটনার পর পঞ্চগড়ের স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। এছাড়া, পরিবারের সদস্যদের মানসিক সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, শারমিনের জেলখানায় পাঠানো এবং মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া পঞ্চগড়ে ঘটিত এই দুঃখজনক অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।



