বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে গৃহঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ১৭ শতাংশে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই হার জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত উচ্চমাত্রায় বজায় থাকে, ফলে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক বোঝা তীব্রতর হয়েছে।
মধ্যম স্তরের হাউজিং সেক্টরে মূলত বেতনভোগী ক্রেতারা ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত তারা সম্পত্তির প্রায় ৭০ শতাংশ ঋণ দিয়ে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট হিসেবে প্রদান করে। একক অঙ্কের সুদের হার থাকলে মাসিক কিস্তি বেতনভোগীদের জন্য সামলানো সম্ভব ছিল, তবে সুদের হার ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে উঠে যাওয়ায় কিস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
একজন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর উল্লেখ করেন, অনেক সেবা কর্মী ভাড়া পরিশোধের বদলে গৃহঋণের কিস্তি দিয়ে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করতেন। তবে বর্তমান উচ্চ সুদের হার এই গণনা নষ্ট করে দিয়েছে, ফলে ভাড়া ও ঋণ কিস্তির মধ্যে পার্থক্য কমে গেছে।
সেক্টরের সামগ্রিক বিক্রয় কমে কমপক্ষে ৩০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, এবং বেশ কিছু স্থিতিশীল ডেভেলপারও ২০ থেকে ২৫ শতাংশের মধ্যে বিক্রয় হ্রাস রিপোর্ট করেছে। এই পতন মূলত ঋণগ্রহীতাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং বিনিয়োগকারীর আস্থা কমে যাওয়ার ফলে ঘটেছে।
কনকর্ড গ্রুপের সাধারণ বিক্রয় হার প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ ইউনিটের মধ্যে ছিল, তবে আগস্ট ২০২৪ সালের ৫ তারিখের পর থেকে বিক্রয় পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। উচ্চতর ঋণসুবিধার খরচ ডেভেলপারদের জন্য লাভের মার্জিন সংকুচিত করেছে এবং নতুন প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি করেছে।
বেসরকারি খাতের একটি প্রধান ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বাড়ি ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি সম্পত্তি বাজারে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে রিয়েল এস্টেটের রিটার্ন হার পূর্বের তুলনায় কমে গেছে এবং ঝুঁকি বাড়েছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা অবমূল্যায়নের সঙ্গে সুদের হার বাড়ার ফলে ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীর জন্য আর্থিক পরিকল্পনা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, যদি সুদের হার দীর্ঘমেয়াদে উচ্চমাত্রায় থাকে, তবে মধ্যম স্তরের হাউজিং সেক্টর সম্পূর্ণভাবে স্থবির হতে পারে এবং সম্পত্তি মূল্যের পতনও ঘটতে পারে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
অবধি, গৃহঋণের কিস্তি বৃদ্ধির ফলে বেতনভোগী ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং ডেভেলপারদের বিক্রয় লক্ষ্য পূরণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বাজারের পুনরুদ্ধার জন্য সুদের হার হ্রাস এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।



