ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আজ অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির সচিব সাধারণ শামীম হায়দার পাটওয়ারি জানিয়েছেন, ১৩তম সংসদীয় নির্বাচনে (১২ ফেব্রুয়ারি) পার্টির পরাজয়কে ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার “বিস্তৃত অনিয়ম এবং ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং” দিয়ে পরিকল্পিত বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শামীম পাটওয়ারি উল্লেখ করেন, সরকার পার্টিকে একটিও সিট জিততে না দেওয়ার লক্ষ্যে ফলাফলকে গোপনে পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, এই উদ্দেশ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের সমর্থন নিয়ে ভোটের ফলাফলকে বিকৃত করা হয়েছে।
১৩তম সংসদীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মোট ১৯৬ প্রার্থী দায়ের করলেও, ৪৫ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয় এবং কোনো সিট জয়ী হয়নি। এ ফলাফলকে তিনি “হাইব্রিড ভোট” বলে বর্ণনা করে, ভোটের বাক্সে অতিরিক্ত কাগজ ভর্তি, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
“ফলাফলটি কর্মকর্তাদের সমর্থন নিয়ে গোপনে পরিবর্তিত হয়েছে। ফলাফল নিয়ে আমরা হতাশ হলেও মনোবল হারাইনি। আমাদের ভোট ধোঁকাবাজির মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে,” শামীম পাটওয়ারি বলেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার অনিয়মের দায় থেকে পালাতে পারবে না। স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা তাদের মূল লক্ষ্য ছিল না,” এবং সরকারকে ফলাফল গঠনমূলকভাবে পরিচালনা করার জন্য দায়িত্ব অস্বীকারের অভিযোগ করেন।
শামীম পাটওয়ারি ভোটের টার্নআউটের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগও করেন, যেখানে সরকারি সহায়তা দিয়ে ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই অভিযোগের সঙ্গে সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, একই রকম অভিযোগ অন্যান্য দলও তুলেছে, যার মধ্যে রয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলাম, জাতীয় নাগরিক দল এবং স্বাধীন প্রার্থীরা।
সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায় শামীম পাটওয়ারি বলেন, বিএনপি সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি যুক্তি দেন, “জুলাই চার্টার নিয়ে শুরুর থেকেই কোনো ঐকমত্য গড়ে ওঠেনি। কোনো রেফারেন্ডাম বা সংবিধান সংশোধন পার্লামেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে হবে,” এই বিষয়টি তিনি জোর দিয়ে বলেন।
অধিকন্তু, তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে বাড়তে থাকা “মব কালচার”-কে কঠোরভাবে সমালোচনা করে, তাৎক্ষণিকভাবে শেষ করার আহ্বান জানান।
জাতীয় পার্টির এই অভিযোগের ফলে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়ছে এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সরকারকে জবাবদিহি করার চাহিদা তীব্রতর হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে।



