হাসরাত মোহানি, ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের কবি-বিদ্রোহী, ১ জানুয়ারি ১৮৭৫ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলার কাসবা মোহন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন; তিনি ১৯২১ সালে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” স্লোগান গঠন করেন, যা পরবর্তী প্রজন্মের বিপ্লবী আন্দোলনে মূলমন্ত্র হয়ে ওঠে।
তাঁর জন্মনাম ছিল সৈয়দ ফজল-উল-হাসানিন কাসবা মোহন; পরে তিনি “হাসরাত” ছদ্মনাম গ্রহণ করে কবিতায় এবং রাজনৈতিক লেখায় এই নাম ব্যবহার করেন, যা তার স্বদেশের পরিচয়কে জোরালোভাবে প্রকাশ করে।
শিক্ষা জীবনের প্রথম ধাপ আলিগড়ে সম্পন্ন হয়, যেখানে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভের সঙ্গে সঙ্গে ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতি বিরোধী মনোভাব গড়ে তোলেন। ছাত্র অবস্থায়ই তিনি ব্রিটিশ শাসনের নীতিগুলোর প্রতি তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করতে শুরু করেন।
১৯০৩ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে প্রথমবার কারাবন্দি করে; তবে জেলখানার কঠোর শর্তেও তার আদর্শে কোনো ক্ষতি হয়নি, বরং তার সংকল্প আরও দৃঢ় হয়।
মোহানি আলিগড়ে “উর্দু-এ-মুয়াল্লা” নামের একটি পত্রিকা চালু করেন, যেখানে ঔপনিবেশিক নীতি ও সামাজিক অবিচারের তীক্ষ্ণ সমালোচনা প্রকাশ পায়; পত্রিকাটি দ্রুতই ব্রিটিশ সেন্সরশিপের লক্ষ্যবস্তু হয়ে যায়।
১৯০৭ সালে পত্রিকাটির নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর মোহানিকে পুনরায় কারাবন্দি করা হয়; এই সময়ে তিনি প্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারকে রক্ষার জন্য আরও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
১৯২৫ সালে আরেকবার জেলখানায় পাঠানো হলেও তার রাজনৈতিক সক্রিয়তা কমে না; তিনি বন্দিত্বের সময়েও কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা চালিয়ে যান, যা পরবর্তী সময়ে বিপ্লবী আন্দোলনের জন্য প্রেরণার কাজ করে।
১৯২১ সালে তিনি “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” বাক্যটি গঠন করেন, যার অর্থ “বিপ্লব চিরজীবী হোক”; দুটি শব্দের সংমিশ্রণ সহজ হলেও তা স্বাধীনতা ও পরিবর্তনের আহ্বান হিসেবে শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছিল।
এই স্লোগান পরে ভগৎ সিংসহ বহু বিপ্লবী দ্বারা উচ্চস্বরে গাওয়া হয়, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় উন্মাদনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্রিটিশ প্রশাসন মোহানিকে ধারাবাহিকভাবে সমস্যাজনক ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করত; তার প্রকাশ্য সমালোচনা ও সংগঠিত কর্মসূচি শাসনের স্থিতিশীলতাকে হুমকি হিসেবে দেখত।
“ইনকিলাব জিন্দাবাদ” আজও বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশ, প্রতিবাদ ও নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ব্যবহৃত হয়; এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ভাষায় স্থায়ী অবস্থান বজায় রেখেছে।
হাসরাত মোহানির জীবন কবিতা ও রাজনীতির সমন্বয়কে উদাহরণস্বরূপ তুলে ধরে; তিনি দেখিয়েছেন যে শব্দের শক্তি অস্ত্রের চেয়ে বেশি দূরগামী হতে পারে, এবং তার উত্তরাধিকার আজও দেশের রাজনৈতিক চেতনার অংশ হিসেবে বেঁচে আছে।



