ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদে রেহান আসিফ আসাদ আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ অনুষ্ঠানটি রবিবার সরকারি সচিবালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ গ্রহণের পর রেহান আসাদ সরাসরি আগারগাঁয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সভাকক্ষে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই বৈঠকে তিনি নতুন দায়িত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। উপস্থিত কর্মকর্তারা তার বক্তব্যে মনোযোগী ছিলেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
নবনিযুক্ত উপদেষ্টা রেহান আসাদ উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের সময় যে ইন্টারনেট সবার জন্য সহজলভ্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়নের জন্য ধাপে ধাপে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক স্থানগুলোতে ফ্রি বা সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা চালু করা হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য শহর ও গ্রাম উভয়ই ডিজিটাল সংযোগের সমতা নিশ্চিত করা।
ফ্রি ইন্টারনেটের পরিকল্পনা প্রধানত সরকারি অফিস, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক লাইব্রেরি এবং ট্রান্সপোর্ট হাবের মতো উচ্চ ব্যবহারিক স্থানে শুরু হবে। এসব স্থানে দ্রুতগতির নেটওয়ার্ক স্থাপন করে নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেশের ডিজিটাল রূপান্তরের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রেহান আসাদের মতে, ইন্টারনেটের ব্যাপক প্রবেশাধিকার না থাকলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন দুটোই সীমাবদ্ধ থাকে। তাই সরকার এই দিকটি অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
ইন্টারনেট সেবার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করার জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার উদ্যোগও গৃহীত হয়েছে। বর্তমান সময়ে ক্রস‑বর্ডার পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় যে বাধা-সুবিধা রয়েছে, তা সরলীকরণে নীতি নির্ধারকরা কাজ করছেন।
পেমেন্ট গেটওয়ে সহজীকরণে মূল লক্ষ্য হল লেনদেনের সময় ও খরচ কমিয়ে ফ্রিল্যান্সারদের বিশ্ববাজারে প্রবেশের বাধা হ্রাস করা। এর ফলে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে সরাসরি কাজ করতে পারবে, যা দেশের রপ্তানি সেবার পরিমাণ বাড়াবে।
এই দুইটি উদ্যোগ—ফ্রি ইন্টারনেট এবং পেমেন্ট গেটওয়ে সরলীকরণ—একসঙ্গে দেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি কলামিস্ট হিসেবে দেখা যায়, এই পদক্ষেপগুলো তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্টার্ট‑আপ সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক হবে।
শ্রদ্ধেয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খানও শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি নতুন উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সমর্থন নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট: দেশের প্রতিটি কোণায় ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দেওয়া, যাতে নাগরিকরা তথ্যের সমান অধিকার পায়। রেহান আসাদের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ফ্রি ইন্টারনেটের বিস্তৃতি শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনবে। গ্রামীণ বিদ্যালয় ও কলেজে অনলাইন রিসোর্সের ব্যবহার বাড়বে, ফলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হবে। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্যসেবায় টেলিমেডিসিনের সুযোগও বাড়বে, কারণ রোগীরা দ্রুত ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরামর্শ নিতে পারবে।
পেমেন্ট গেটওয়ে সহজীকরণে আর্থিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়বে, যাতে নিরাপদ ও স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের সিকিউরিটি প্রোটোকল ও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কের ব্যবহার বাড়বে, যা ব্যবহারকারীর আস্থা জোরদার করবে।
সামগ্রিকভাবে, রেহান আসিফ আসাদের উপদেষ্টা পদে শপথ গ্রহণ এবং তার ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ফ্রি ইন্টারনেট ও পেমেন্ট গেটওয়ে সরলীকরণ দুটোই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক সমতা এবং প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বনকে ত্বরান্বিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



