বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভা আজ অনুষ্ঠিত হয়ে মঞ্জুরুল ইসলামকে দেশের ক্রিকেটে কোনোভাবে যুক্ত না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মঞ্জুরুল, যিনি জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং নারী দলের পূর্ব নির্বাচক ও ম্যানেজার, তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহীত এই পদক্ষেপটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় বাস করা নারী ক্রিকেটার জাহানারা আলমের এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব নেয়। জাহানারা লিখিতভাবে একই অভিযোগ কমিটিকে উপস্থাপন করেন, যার ফলে চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের উপর গভীর বিশ্লেষণ করা হয়।
৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে দেখা যায় যে, চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পেলেও বাকি দুটি অভিযোগে স্পষ্টভাবে অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মঞ্জুরুলের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার অধীনে হয়রানি ও অসদাচরণের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
এই ফলাফলের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ আজ ভার্চুয়াল সভায় মঞ্জুরুলকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনোভাবে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বর্তমানে মঞ্জুরুল এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এ কর্মরত, এবং গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো দায়িত্বে ছিলেন না।
বিবেচনা করা হয়েছে যে, মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে তৌহিদ মাহমুদের (যিনি নারী উইংয়ের প্রাক্তন ইনচার্জ) বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তদন্ত কমিটি তৌহিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে রায় দেয়।
বিষয়টি নিয়ে জাহানারার প্রকাশ্য অসন্তোষের পরেও, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তে স্পষ্টতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঞ্জুরুলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, ফলে তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই সিদ্ধান্তের কার্যকরী সময়সীমা সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করা হলেও, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী, নতুন কোনো নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে।
মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে গৃহীত এই শাস্তি, ক্রিকেটে নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখার এবং খেলোয়াড় ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নীতি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কঠোরতা বজায় রাখতে এই ধরনের তদন্ত ও শাস্তি প্রয়োগের ধারাবাহিকতা প্রত্যাশিত।
এই ঘটনার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তাদের এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, নারী ক্রিকেটের স্বাস্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।



