ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তিতাস নদীর ধারে রবিবার বিকেলে এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় থানা ঘাটের নিকটবর্তী অংশে পুলিশ দল ট্রলার নিয়ে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে। মৃতদেহের পরিচয় হয় ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী, যিনি হোসেনপুর গ্রাম, ছলিমাবাদ ইউনিয়নের নজরুল মিয়ার পুত্র।
মোহাম্মদ আলী তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবার জানায়, তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী এবং সাম্প্রতিককালে কুমিল্লায় চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে গেলেও কোনো ফল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দাখিল করা হয়নি।
রবিবার বিকালে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীতে ভাসতে থাকা একটি দেহ লক্ষ্য করে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। কল পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা অফিসার মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করেন। পরে পরিবার সদস্যরা এসে দেহটি স্বীকৃতি দেন।
মৃতদেহের পিতার কথা অনুযায়ী, “আমার ছেলে মানসিকভাবে দুর্বল ছিল, তিন দিন ধরে তাকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আজ নদীতে দেহ ভাসছে শুনে এসে দেখলাম এটা আমার সন্তান।” তিনি আরও যোগ করেন, “তার কোনো শত্রু ছিল না, আমরা জানি না কীভাবে নদীতে গিয়ে পৌঁছেছে।”
মৃতকন্যার মা জানান, “কয়েক দিন আগে সে কুমিল্লায় চিকিৎসা করাচ্ছিল, মানসিক সমস্যার জন্য। নদীতে কীভাবে পৌঁছেছে তা আমাদের জানা নেই। প্রতিবেশীর কথায় ও ফেসবুকে ছবির মাধ্যমে আমরা ছেলের দেহ চেনেছি।”
চাচা, যিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, তাও দেহটি স্বীকৃতি দেন এবং জানান, “পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে দ্রুতই গিয়ে দেহটি দেখেছি।”
ওসি মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়া জানান, “৯৯৯ নম্বরে কল পাওয়ার পর আমরা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করেছি। পরিবারের সদস্যরা এসে দেহটি চেনেছেন। এখন সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।”
পুলিশের মতে, দেহটি উদ্ধার করার পর ফরেনসিক পরীক্ষা এবং মৃতদেহের প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় কোনো সন্দেহভাজন বা অপরাধীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ উভয়ই ঘটনাটির দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ করছেন। পরিবারকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



