দিল্লি থেকে আসা ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা আজ ঢাকা বিদেশ মন্ত্রণালয়ে নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সংলাপ চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই মন্তব্যটি নতুন বিদেশ মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানানো হয়।
বর্মা বৈঠকে উল্লেখ করেন, মানুষ-থেকে-মানুষের বিনিময় দ্বিপাক্ষিক বন্ধনের মূল স্তম্ভ এবং নতুন বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতে এ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও পর্যটন ক্ষেত্রের আদানপ্রদান উভয় দেশের নাগরিকের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক নতুন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর, তারেক রহমানের কাছে পাঠানো চিঠি, ফোন কল এবং লোকসভা স্পিকার ওম বিরলাকে নতুন ক্যাবিনেটের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি—all এই যোগাযোগগুলোকে বর্মা দু’দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনকে আরও মজবুত করার ইচ্ছা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সব সংলাপের মাধ্যমে ভারতীয় পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ হিসেবে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
বর্মা আরও উল্লেখ করেন, ভারত বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী হিসেবে স্বীকৃত এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যমান শিল্প, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি সেক্টরে নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে উভয় দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর হবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়েও ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা হয়। বর্মা জানান, বাংলাদেশে ১.২ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে স্বাগত জানিয়ে চলার সময় ভারত তাদের মানবিক সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। এই সহায়তা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে কেন্দ্রীভূত হবে।
পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করার প্রশ্নে বর্মা ব্যাখ্যা করেন, এটি মানুষ-থেকে-মানুষের সম্পর্ককে শক্তিশালী করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, ভিসা নীতি সহজলভ্য করা উভয় দেশের পর্যটন শিল্পকে উত্সাহিত করবে এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে ত্বরান্বিত করবে।
বর্মা শেষ করে বলেন, নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে ভারত উভয় দেশের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়াতে চাইবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শীঘ্রই উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের সংলাপের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলো নির্ধারিত হবে এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।



