ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কয়কোবাদ) রবিবার সকাল ঢাকার আশকোনা হজ অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনলাইন মাধ্যমে হজ গাইড প্রশিক্ষণ‑২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। তিনি হজযাত্রীদের আল্লাহর অতিথি বলে উল্লেখ করে, তাদের সেবা করা গর্বের কাজ এবং মা‑বাবার মতো স্নেহের সঙ্গে আচরণ করা উচিত, এ কথা জোর দিয়ে বললেন।
মন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীর সন্তুষ্টি অর্জন করলে আল্লাহ প্রশংসা ও পুরস্কার দিয়ে সাড়া দেবেন, আর যদি সঠিক সেবা না দেওয়া হয় বা কষ্ট দেয়া হয়, তবে আল্লাহ কঠোর শাস্তি আরোপ করবেন। এই বক্তব্যে তিনি হজযাত্রীদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও নৈতিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
হজ গাইডদের প্রতি তিনি অনুরোধ করেন, যাত্রীর চাহিদা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে। গাইডদের সঠিক নির্দেশনা ও সহায়তা হজের সুষ্ঠু পরিচালনার মূল চাবিকাঠি, এ বিষয়টি তিনি পুনরায় জোর দেন।
ধর্মমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিএনপি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে। এই সরকার অধীনে ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনা যেন স্বচ্ছ, সাবলীল ও মসৃণ হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে পূর্ণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করতে হবে।
তিনি শৈথিল্য বা উদাসীনতা পরিহার করার আহ্বান জানান, হজ সেবা ক্ষেত্রে কোনো ধীরগতি বা অবহেলা না থাকুক। হজের সময়সূচি, নিরাপত্তা ও সেবা মানদণ্ড বজায় রাখতে সকল সংস্থা ও গাইডকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতে হবে, এটাই তার প্রত্যাশা।
মন্ত্রীর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হল, ২০২৬ সালে সরকারি‑বেসরকারি পার্থক্য না রেখে হজযাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা প্রদানকারী তিনজন গাইডকে ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করা হবে। এই পুরস্কার গাইডদের কাজের গুণগত মান উন্নয়নে প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মো. আয়াতুল ইসলাম, যুগ্ম সচিব ড. মঞ্জুরুল হক, পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেন এবং হাব মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। সকল উপস্থিত কর্মকর্তা মন্ত্রীর বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের জন্য সমন্বিত কাজের প্রতিশ্রুতি দেন।
এই প্রশিক্ষণ-২০২৬ উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি হজ গাইডদের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি পাবে, যা হজযাত্রীদের নিরাপদ ও আরামদায়ক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। সরকারী দৃষ্টিতে, হজ সেবা উন্নয়ন দেশের আন্তর্জাতিক চিত্রকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হজ সেবা সংক্রান্ত এই ধরনের উদ্যোগ সরকারকে ধর্মীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল শাসক হিসেবে উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার হজ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে জনমতকে জয় করার পাশাপাশি, ধর্মীয় পর্যটন থেকে আর্থিক আয় বাড়ানোর লক্ষ্যও রাখে।
পরবর্তী ধাপে, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার পর গাইডদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে এবং নির্ধারিত মানদণ্ডে পৌঁছানো গাইডদের পুরস্কার প্রদান করা হবে। সরকার এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত রাখতে তদারকি করবে, যাতে হজযাত্রীদের সেবা মান সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়।
ধর্মমন্ত্রীর এই বক্তব্য ও পরিকল্পনা হজ সেবা ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যা বাংলাদেশ সরকারকে ধর্মীয় দায়িত্বের সঙ্গে আধুনিক প্রশাসনিক দক্ষতা যুক্ত করতে সহায়তা করবে।



