প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ ক্যাবিনেট বিভাগের বিশেষ কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত উচ্চস্তরের বৈঠকে ধরা পড়া হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের দ্রুত উদ্বোধনের নির্দেশ দেন। তিনি টার্মিনালের সম্পূর্ণ কার্যকরীতা বাড়িয়ে যাত্রীসংখ্যা সামলানোর ক্ষমতা ও পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেন। বিমানবন্দরের বর্তমান টার্মিনালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে রয়েছে, ফলে অতিরিক্ত টার্মিনালের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি বিমানবন্দরের বর্তমান কার্যক্রমের পর্যালোচনা সভার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান খান চৌধুরী, সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, রাজ্য মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সিএএবি চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকী, বিডিএ নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, সিভিল এভিয়েশন সেক্রেটারি নাসরিন জাহান এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রাসঙ্গিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
আফরোজা খানম বৈঠকে জানিয়ে বলেন, বর্তমান পর্যায়ে তৃতীয় টার্মিনাল কখন সম্পূর্ণভাবে চালু হবে তা নির্দিষ্ট করা কঠিন, তবে কার্যক্রম শুরু করার জন্য দ্রুততর উপায় খোঁজা হচ্ছে। মন্ত্রীর মতে, টার্মিনালের প্রস্তুতি দ্রুততর করার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয় বাড়ানো হবে। তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে টার্মিনালকে দ্রুত চালু করার জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার উদ্যোগে শুরু হয় এবং ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে ভিত্তি কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মোট অনুমানিত ব্যয় টাকার ২১,৩৯৮ কোটি, যার মধ্যে সরকার সরাসরি ৫,০০০ কোটি ব্যয় করেছে, বাকি অংশ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (JICA) থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। JICA থেকে প্রাপ্ত ঋণটি দীর্ঘমেয়াদী সুদের হারে প্রদান করা হয়েছে, যা প্রকল্পের আর্থিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে।
টার্মিনালের “সফট ইনঅগ্রেশন” ৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বারা সম্পন্ন হয়। তবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের সূচনা ২০২৪ সালের জন্য নির্ধারিত থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
পরবর্তী সরকারও টার্মিনালকে চালু করার জন্য বহুবার প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েও এখনও তা খোলা যায়নি। মূল বাধা হিসেবে মাটির হ্যান্ডলিং ও পরিচালন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা এবং টার্মিনাল ভবনের কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি উল্লেখ করা হয়েছে।
জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে প্রাক্তন সিভিল এভিয়েশন উপদেষ্টা স্ক. বশির উদ্দিন উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার জাপানি সহ-মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাসহ সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তবু টার্মিনাল উদ্বোধনে বাধা অতিক্রম করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্রুত উদ্বোধনের নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এখন টার্মিনালের কার্যকরী প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে মনোনিবেশ করবে। এতে মাটির হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি সমাধানের জন্য বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হতে পারে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমন্বয় এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণের জন্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
সম্পূর্ণ চালু হলে টার্মিনালটি অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন যাত্রী প্রতি বছর সামলাতে সক্ষম হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে এবং হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী সামর্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে আন্তর্জাতিক ও গৃহস্থালি উড়ানগুলোর সময়সূচি সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবকাঠামো উন্নয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। এই পদক্ষেপটি সরকারকে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সক্রিয়তা প্রদর্শনের সুযোগ দেয় এবং ভোটারদের কাছে বিমান পরিবহন সেবা উন্নত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে এখন টার্মিনালের উদ্বোধনের সময়সূচি নির্ধারণ এবং কার্যকরী পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য দ্রুত কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অতিরিক্ত বিলম্ব না ঘটে।



