মুহাম্মদ ইউনূস ১৮ মাসের বিরতির পর আবার ঢাকা শহরের মিরপুরে অবস্থিত ইউনূস সেন্টারে উপস্থিত হন। তিনি রবিবার সকাল টেলিকম ভবনের প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করে কর্মস্থলে ফিরে আসার সংকেত দেন। এই ফিরে আসা তার পূর্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পরের প্রথম পদক্ষেপ।
সেন্টারের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনূস সেন্টারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাকে স্বাগত জানিয়ে হাততালি ও শুভেচ্ছা জানায়। উপস্থিতির মুহূর্তে কর্মীদের মধ্যে উল্লাসের পরিবেশ দেখা যায়।
স্বাগত জানানোর পর ইউনূস গ্রামীণ সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন। বৈঠকে কৃষি, মাইক্রোফাইন্যান্স ও সামাজিক উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। উপস্থিত প্রতিনিধিরা ইউনূসের পূর্ববর্তী কাজের প্রশংসা করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে ইউনূস সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উপদেষ্টারাও অংশ নেন। তারা সংস্থার বর্তমান কার্যক্রম ও চলমান প্রকল্পের অবস্থা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। এই উপস্থিতি সংস্থার অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে দৃঢ় করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ইউনূস সেন্টার জানিয়েছে, ইউনূস চলতি মাসের শেষের দিকে গুলশানের নিজের বাসভবনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি গৃহে ফিরে গিয়ে সামাজিক উদ্যোগের নতুন দিক নির্ধারণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই পরিকল্পনা সংস্থার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটায়। একই মাসের ৮ তারিখে ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং তিনি প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সরকার দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের জন্য অস্থায়ীভাবে কাজ করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের কাজের মেয়াদ ১৮ মাসের কাছাকাছি চলে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গৃহীত হয়। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর করে। এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন সরকার গৃহীত হওয়ার পর ইউনূসের ভূমিকা আবার সিভিল সোসাইটি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় হয়ে ওঠে। তার ফিরে আসা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে তিনি যে সামাজিক উদ্যোগ ও মাইক্রোফাইন্যান্স মডেল গড়ে তুলেছেন, তা ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিপক্ষের কিছু নেতা উল্লেখ করেছেন, ইউনূসের ফিরে আসা দেশের উন্নয়ন নীতি ও দারিদ্র্য বিমোচনায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ইউনূসের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে সহায়ক হবে। তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক সতর্কতা প্রকাশ করে, তিনি রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসলে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকবে তা দেখা দরকার।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, ইউনূসের উপস্থিতি সামাজিক উদ্যোগের জন্য নতুন তহবিল সংগ্রহ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সহজ করতে পারে। এছাড়া, তার নীতি প্রস্তাবনা সরকারী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হলে দারিদ্র্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ইতিমধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, মুহাম্মদ ইউনূসের ইউনূস সেন্টারে ফিরে আসা তার সামাজিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা এবং দেশের উন্নয়ন নীতি গঠনে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করার ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে তার ভূমিকা কীভাবে বিকশিত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



