ইলেকশন কমিশন (ইসি) রবিবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের নতুন বয়সসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়। দেশের সর্বত্র ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী নাগরিকদের এখন এনআইডি পেতে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
ইসির সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে প্রকাশিত এক পরিপত্রে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন নীতি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সকল আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি হল জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০, যা ২০১৩ সালে সংশোধিত হয়েছে। আইনটির ধারা ৫ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট বয়সসীমা পূরণকারী নাগরিকদের নিবন্ধনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনগত ধারা উল্লেখ করে ইসির এই পদক্ষেপকে বৈধতা প্রদান করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্ম তারিখের ভিত্তিতে বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে বা হবে, তারা এনআইডি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন প্রক্রিয়া পূর্বের মতোই হবে; আবেদনকারীকে অনলাইন বা সশরীরে আবেদন ফর্ম পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নির্দেশনা ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। আবেদনকারীকে জাতীয় পরিচয় নম্বর (এনআইডি) পাওয়ার জন্য পূর্বে নির্ধারিত শর্তাবলী মেনে চলতে হবে, যার মধ্যে বয়সের প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানুর খান এই আদেশে সকল সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের অবহিত করে অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি তরুণ প্রজন্মের নাগরিক অধিকারকে শক্তিশালী করবে এবং নির্বাচনী তালিকায় তাদের অংশগ্রহণ সহজ করবে।
এখন পর্যন্ত এনআইডি পেতে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের নাগরিকদেরই অনুমতি ছিল। নতুন নীতি অনুযায়ী, ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী তরুণদেরও একই সুবিধা পাবেন, যা দেশের ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থার বিস্তারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই পরিবর্তনটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক চালু করা বিস্তৃত ডিজিটাল রূপান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার ডিজিটাল পরিচয়কে সামাজিক সেবা, আর্থিক লেনদেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। তরুণ নাগরিকদের এনআইডি প্রদান এই লক্ষ্যকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সকল নির্বাচন অফিসারকে নতুন বয়সসীমা অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ এবং প্রক্রিয়াকরণে ত্বরান্বিত ব্যবস্থা নিতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্থানীয় অফিসে সরবরাহ করা হবে।
সারসংক্ষেপে, ইলেকশন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী নাগরিকদের এনআইডি পেতে সুযোগ দেবে, যা তাদের নাগরিক অধিকার ও নির্বাচনী অংশগ্রহণে সহায়তা করবে। সরকার ও ইসির সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই নীতি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের ডিজিটাল পরিচয় কাঠামোর উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



