31.1 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষক নিহত

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলশিক্ষক নিহত

রাজশাহী বিভাগের পুঠিয়া উপজেলায় রবিবার সকাল প্রায় ১১ টা ৩০ মিনিটে নাটোর‑রাজশাহী মহাসড়কে এক ট্রাকের সাথে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী এক স্কুলশিক্ষক প্রাণ হারান। ঘটনাস্থলটি পুঠিয়া সদর ফায়ার সার্ভিস অফিসের ঠিক সামনে, যেখানে ট্রাফিকের গতি বেশ দ্রুত।

মৃত শিক্ষকের নাম আবদুর রাজ্জাক, যিনি ধোপাপাড়া গ্রামের গোলাম রসুলের পুত্র। তিনি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রতিদিন সকালবেলা শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু করার জন্য রাস্তায় যাতায়াত করতেন। পরিবার জানায়, তিনি পরিবারিক দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য নিবেদিত ছিলেন।

সকালবেলা, শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক যখন স্কুলে যাওয়ার পথে মহাসড়কের পাশে থেমে ছিলেন, তখন তিনি কিছু স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথোপকথন করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি ট্রাফিকের গতি সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন, তবে হঠাৎই ট্রাকের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সামনে থাকা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। ট্রাকটি শিক্ষকের গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খায় এবং গাড়িটি উল্টে যায়, ফলে শিক্ষক গুরুতর আঘাত পেয়ে তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করেন।

পবা হাইওয়ে থানার ওয়ানডি অফিসার মোজাম্মেল হক ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্রুত তদন্ত শুরু করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনা ঘটার পর পুলিশ দ্রুত现场ে পৌঁছায় এবং আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি সাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি, ফলে তা তৎক্ষণাৎ আটক করা সম্ভব হয়নি। ট্রাকের মালিক ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর শনাক্ত করার কাজ বর্তমানে চালু রয়েছে।

পুলিশের মতে, ট্রাকের চালককে তৎকালীন গতি সীমা অতিক্রমের জন্য তদন্ত করা হবে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য যথাযথ শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ট্রাফিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো লঙ্ঘন থাকলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুসন্ধান করা হবে। বর্তমানে ট্রাকের মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড এবং গাড়ির চেসিস নম্বর যাচাই করা হচ্ছে।

আইনি দিক থেকে, পুলিসের তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলার দায়ের করা হবে। দুর্ঘটনা ঘটার সময় গতি সীমা, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের লাইসেন্সের বৈধতা ইত্যাদি বিষয়গুলো তদন্তের মূল দিক হবে। আদালতে প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি, গৃহীত শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত রায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের (পরিবার, গাড়ির মালিক, ট্রাফিক বিভাগ) সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

মৃতদেহের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দুঃখ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের শেষকৃত্য গ্রহণের জন্য ধর্মীয় রীতি মেনে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা শোকের সময়ে পরিবারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।

এই ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ট্রাফিক নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে, শিক্ষকদের মত গুরুত্বপূর্ণ পেশাজীবী যখন রোডে আঘাত পান, তা সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ট্রাফিক বিভাগকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, মহাসড়কে গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা, রোড সাইনেজের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত।

অবশেষে, এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে রোড সেফটি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের শাস্তি কঠোর করা, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা এবং রোড ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি হবে। স্থানীয় জনগণ আশা করে যে, যথাযথ আইনি ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হলে এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনা আর না ঘটে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments