শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবকে সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া।
প্রতিমন্ত্রী দু’টি বিষয়কে শূন্য সহনশীলতা হিসেবে উল্লেখ করেন—দুর্নীতি ও দলীয়করণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষা খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো জায়গা নেই; ব্যক্তিগত জীবনে কেউ কী রাজনীতি করে তা বিষয় নয়, তবে শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে পলিটিকাইজেশনকে রোধ করতে হবে।
শিক্ষকদের লিখিত দাবিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে, এ কথাও তিনি জানান। বিভিন্ন দাবির মধ্যে যেসব ‘স্ট্যান্ডিং ইস্যু’ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হঠাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, শিক্ষক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যাতে একই সমস্যায় পাঁচ বা সাত বছর পর আবার প্রতিবাদ না হয়।
শিক্ষক মর্যাদা সংক্রান্ত বিষয়েও প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকরা যে দায়িত্ব পালন করেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষক সমাজের প্রত্যাশা ও মর্যাদা সম্পর্কে সরকার সচেতন এবং তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেবে।
কারিকুলাম সংস্কার পরিকল্পনায় ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, মাদ্রাসা ও আলিয়া—all এক সাধারণ কাঠামোর (জেনারেল আমব্রেলা) আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে এবং পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করে অগ্রসর হবে, যাতে প্রতিটি ধাপের প্রভাব সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কাঠামো নিয়ে এনটিআরসিসহ বিভিন্ন সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা—এই তিনটি বিভাগে সমন্বয় বাড়িয়ে কাঠামোগত সাদৃশ্য আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ধরনের সমন্বয় শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে জড়িত হলে প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই নীতি বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের প্রতিনিধিরা প্রতিমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তারা জোর দেন, শিক্ষকেরা যদি স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে পারে, তবে শিক্ষার পরিবেশ আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
এই সভা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানানো হয় যে, শিক্ষাখাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি বাস্তবায়ন এবং শিক্ষকদের মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন দ্রুততর করা হবে। সরকার এই দিকগুলোতে অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন স্তরে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নীতি বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষকদের স্বতন্ত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখার লক্ষ্য স্পষ্ট।
বাংলাদেশ সরকার এই নীতি অনুসরণ করে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার পরিবেশকে আরও নিরাপদ ও সমৃদ্ধ করতে, সকল স্টেকহোল্ডারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



