32 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে কাজের প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ

মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে কাজের প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ

মেক্সিকোতে বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক কাজের বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগ উত্থাপন করেন। পোস্টে তিনি মেক্সিকোতে তার নিয়োগ, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং ভোটের আগে দেশে ফিরে আসার অনুমতি না দেওয়া সহ বিভিন্ন বিষয়কে উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেনের কর্মকাণ্ডকে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

আনসারী লিখেছেন, তিনি তৌহিদ হোসেনের কর্মজীবন সম্পর্কে কোনো তথ্য যাচাই করার সুযোগ পাননি এবং এ বিষয়ে তার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই, তবে তৌহিদ হোসেনের পদক্ষেপ তাকে প্রথম থেকেই অসুবিধার মুখে ফেলেছে। মেক্সিকোতে তার দায়িত্ব গ্রহণ থেকে শুরু করে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণের অনুমতি না দেওয়া, ভোটের আগে দেশে ফিরে আসতে বাধা দেওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তিনি বাধা অনুভব করেছেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, তৌহিদ হোসেনের সহকর্মী, লাটভিয়ার মিস ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শূন্য থাকা মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদন করার জন্য তাকে উৎসাহিত করা হয়েছিল। এই পদে আবেদন করতে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পরামর্শে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তৌহিদ হোসেন প্রাথমিকভাবে তাকে আবেদন করার জন্য সবুজ সংকেত দেন।

আনসারী উল্লেখ করেন, এমন একটি আন্তর্জাতিক পদে সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন এবং নোট ভার্বাল প্রয়োজন, যার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও সহায়তা পেয়েছিলেন। তবে তিনি আশা করছিলেন যে বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনই প্রধান হবে, কারণ জাতিসংঘে দেশের দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তিনি জোর দিয়ে বলছেন। মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন এবং ইউএন বিল্ডিংয়ের বহু কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় রয়েছে।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, তিনি যথাসময়ে আবেদন পাঠিয়েছেন এবং তা পাঠানোর পরপরই তৌহিদ হোসেনের কাছ থেকে “not to proceed” (অগ্রসর না হওয়ার) নির্দেশনা পেয়েছেন। তার পর থেকে তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ফোনে কোনো যোগাযোগ ঘটেনি।

আনসারী এই পরিস্থিতি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন এবং তিনি এই বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীকে এই তথ্য জানিয়ে তাকে কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি।

এই অভিযোগের ফলে বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি প্রয়োগে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তৌহিদ হোসেনের পদত্যাগের পর থেকে তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে বিভিন্ন স্তরে বিরোধ দেখা দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে সরকারী নীতি নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সহকারী মহাসচিব পদে আবেদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা এখন বিশ্লেষণের বিষয়। তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে আনসারীর অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা দেশের কূটনৈতিক ম্যান্ডেটের ওপর প্রশ্ন তুলতে পারে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক পদে নিয়োগের পদ্ধতিতে সংশোধনী আনা হতে পারে।

অন্যদিকে, মেক্সিকোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সরকারী সূত্র থেকে জানার অপেক্ষা রয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments