হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত পরিচালক অনুরাগ কাশ্যাপ সম্প্রতি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ চলচ্চিত্রের ওপর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ছবিটি ধর্মভিত্তিক ঘৃণার প্রচার করে এবং মূলত মুনাফা অর্জনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কাশ্যাপের এই মন্তব্য বলিউডের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
‘দ্য কেরালা স্টোরি’ একটি ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী থ্রিলার, যা সম্প্রতি ট্রেলার প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু কেরালার ইসলামিক সম্প্রদায়ের ওপর ভিত্তি করে, যা বহু ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছ থেকে আক্রমণাত্মক রূপে দেখা হয়েছে। বিশেষ করে ট্রেলারে দেখানো একটি দৃশ্য, যেখানে এক নারীকে গরুর মাংস জোরপূর্বক খাওয়ানো হচ্ছে, তা নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
কাশ্যাপ ট্রেলারের ওই দৃশ্যটি দেখার পর মন্তব্য করেন, “এ ধরনের গরুর মাংসের দৃশ্য কেউই দেখাবে না; এমনকি খিচুড়ি পর্যন্ত না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ছবিটি বাস্তব ঘটনার বদলে কল্পিত কাহিনী ব্যবহার করে দর্শকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। কাশ্যাপের মতে, চলচ্চিত্রটি ধর্মীয় সংবেদনশীলতা কাজে লাগিয়ে দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করার প্রচেষ্টা করছে।
চলচ্চিত্রের নির্মাতা ভিপুল শাহকে কাশ্যাপ ‘লোভী’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “তিনি শুধু টাকা উপার্জন এবং সবকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই প্রকল্পে হাত বাড়িয়েছেন।” কাশ্যাপের এই মন্তব্যে তিনি চলচ্চিত্রের আর্থিক উদ্দেশ্যকে প্রধান দিক হিসেবে তুলে ধরেন, এবং ধর্মীয় বিভাজনকে মুনাফার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেন।
অনুরাগ কাশ্যাপের এই মন্তব্যের পর থেকে বলিউডের বিভিন্ন শিল্পী ও সমালোচকরা একমত হয়ে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’কে ধর্মীয় ঘৃণার প্রচার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে না হয়ে কল্পিত কাহিনীর ওপর নির্ভরশীল, যা সমাজে বিভাজন বাড়াতে পারে।
বহু শিল্পী ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে এই চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন এবং দর্শকদেরকে সতর্ক করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিছু অভিনেতা এবং লেখক বলিউডের মধ্যে ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখার জন্য কঠোর নীতি প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। এই ধারাবাহিক সমালোচনা চলচ্চিত্রের মুক্তি ও প্রচার পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করতে পারে।
‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নির্মাতারা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি, তবে চলচ্চিত্রের বিতর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও বিতরণকারী সংস্থা সম্ভবত পাবলিক রিলেশনস কৌশল পুনর্বিবেচনা করবে, যাতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্নের সমাধান করা যায়।
এই ঘটনা বলিউডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, যা দেখায় যে ধর্মীয় বিষয়বস্তু নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রগুলোকে সামাজিক দায়িত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অনুরাগ কাশ্যাপের মতামত শিল্পের মধ্যে স্বচ্ছতা ও নৈতিক দায়িত্বের আলোকে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা সংক্রান্ত চলচ্চিত্রের উৎপাদন ও প্রচার প্রক্রিয়ায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা সম্ভবত অপরিহার্য হয়ে দাঁড়াবে।
ট্রেলার প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ নিয়ে আলোচনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। হ্যাশট্যাগ #KeralaStoryDebate ট্রেন্ডিং তালিকায় উঠে এসেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ছবির ধর্মীয় রূপকথা ও বাস্তবতার পার্থক্য নিয়ে তীব্র মতবিনিময় করছেন। কিছু দর্শক চলচ্চিত্রের কাহিনীর প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে, অন্যদিকে কিছু সমর্থক চলচ্চিত্রের সৃজনশীল দিককে প্রশংসা করছেন।
চলচ্চিত্রের আর্থিক সম্ভাবনা নিয়ে শিল্প বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যে অনুমান প্রকাশ করেছেন। ‘দ্য কেরালা স্টোরি’কে উচ্চ বক্স অফিস সম্ভাবনা যুক্ত চলচ্চিত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তবে ধর্মীয় বিতর্কের ফলে প্রি-রিলিজ শোয়িং এবং বিজ্ঞাপন প্রচার সীমিত হতে পারে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি বিতর্ক বাড়তে থাকে, তবে চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক সাফল্যেও প্রভাব পড়তে পারে।



