ঢাকা শহরের এক বাসায় আজ বিকালে বিশিষ্ট তদন্তমূলক সাংবাদিক সেলিম সামাদ নশ্বর হয়েছেন। তিনি বহু বছর ধরে সাংবাদিকতা, লেখালেখি এবং মিডিয়া অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন। তার মৃত্যু দেশের মিডিয়া ক্ষেত্রের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সেলিম সামাদ বহু পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষণামূলক সাংবাদিক ছিলেন, যিনি দেশের সামাজিক ও পরিবেশগত সমস্যাগুলোকে উন্মোচন করতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন। তার লেখনীতে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রায়ই উঠে আসে।
তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং ইংরেজি দৈনিক “দ্য নিউজ টাইমস”, “দ্য বাংলাদেশ অবজারভার” এবং “দ্য এশিয়ান এজ”-এ নিয়মিত কলাম লিখতেন। এসব প্রকাশনায় তার বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনগুলো পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
আজ বিকেল ২:৩০ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রাঙ্গণে প্রথম নামাজ-ই-জনাজা অনুষ্ঠিত হবে, আর ৩:০০ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় নামাজ-ই-জনাজা নির্ধারিত হয়েছে। উভয় অনুষ্ঠানে সহকর্মী সাংবাদিক, পরিবারিক সদস্য এবং মিডিয়া সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
সেলিমের কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃত হয়েছে; তার নিবন্ধগুলো “টাইম” ম্যাগাজিন, “ইন্ডিয়া টুডে” ও “আউটলুক” (ইন্ডিয়া) এবং পাকিস্তানের “সাউথ এশিয়া” ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রকাশনাগুলোতে তার প্রতিবেদনগুলো দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি দেশের ছোট শহরের সাংবাদিকদের জন্য ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করতেন, যেখানে সামাজিক উন্নয়নের মূল বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হতো। এসব কোর্সের মাধ্যমে বহু তরুণ সাংবাদিকের ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে।
পরিবেশ ও উন্নয়ন সাংবাদিকতার ওপর কেন্দ্রিক কর্মশালা তিনি বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার সাংবাদিকদের জন্য আয়োজন করতেন। এই কর্মশালাগুলোতে পরিবেশগত নীতি, টেকসই উন্নয়ন এবং জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধির পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হতো।
সেলিম সামাদ পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা একাডেমি ফর এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট (AED), এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO), বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন (BCDJC), বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস জার্নালিস্টস ফোরাম (BMSF) এবং ফোরাম অফ এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিস্টস অব বাংলাদেশ (FEJB)-এ মিডিয়া স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। এসব পদে তিনি মিডিয়া নীতি, প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।
তার কর্মজীবন দেশের সাংবাদিকতার মানদণ্ডকে উঁচুতে নিয়ে গিয়েছে এবং বহু তরুণ সাংবাদিককে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। সেলিমের নিবন্ধগুলো প্রায়ই গভীর অনুসন্ধান এবং ন্যায়সঙ্গত বিশ্লেষণকে একত্রিত করত, যা পাঠকদের বিষয়ের প্রকৃত দিকটি বুঝতে সাহায্য করত।
সামাজিক মিডিয়া এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সমিতি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে, এবং তার অবদানকে স্মরণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেছে। তার পরিবার ও সহকর্মীরা তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেলিম সামাদের মৃত্যু দেশের মিডিয়া পরিবেশে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে, তবে তার শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং প্রকাশিত কাজগুলো ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের জন্য মূল্যবান রেফারেন্স হিসেবে রয়ে যাবে। তার জীবন ও কর্মের স্মৃতি নতুন প্রজন্মকে সত্য অনুসন্ধান এবং ন্যায়বিচার রক্ষার পথে অনুপ্রাণিত করবে।



