32 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারমজানে তাপমাত্রা কমে জুসের বিক্রি হ্রাস, ঢাকার অলিগলিতে বাজারের চিত্র

রমজানে তাপমাত্রা কমে জুসের বিক্রি হ্রাস, ঢাকার অলিগলিতে বাজারের চিত্র

ঢাকার অলিগলিতে রমজানের প্রথম সপ্তাহে ইফতারের আগে জুসের স্টলগুলোতে সাধারণত দেখা যাওয়া ভিড়ের পরিবর্তে শূন্যতা দেখা গেছে। গরমের তীব্রতা কম থাকায়, তাপমাত্রা হ্রাস পেলে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে কমে, ফলে জুস বিক্রেতারা কম গ্রাহকের সম্মুখীন হচ্ছেন।

সপ্তাহান্তে সরেজমিনে মিরপুর, আজিমপুর, লালবাগ এবং পলাশীর কয়েকটি জুসের দোকান পরিদর্শন করা হয়। ইফতারের ঠিক আগের মুহূর্তে স্টলগুলোতে কোনো ক্রেতা দেখা যায়নি; বিক্রেতারা ফোনে ব্যস্ত অথবা গ্লাস পরিষ্কার করে অপেক্ষা করছেন।

রমজানের শুরুর দিকে বিক্রির পরিমাণ সাধারণত কিছুটা কম থাকে, কারণ অনেক পরিবার ঘরে ফল কেটে বা নিজে শরবত বানিয়ে ইফতার করে। তবে মাসের মাঝামাঝি গরম তীব্র হলে বিক্রি দ্রুত বাড়ে, যা এই বছর তাপমাত্রা কম থাকার ফলে এখনও ঘটেনি।

মিরপুর‑১১ ও ১২ নম্বর এলাকায় বিকেলের ব্যস্ত সময়ে কয়েকটি দোকানে অল্প পরিমাণে বিক্রি চলছিল। দোকানদারদের মতে, তুলনামূলকভাবে শীতল আবহাওয়ায় ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা কম, ফলে বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে কম।

একজন বিক্রেতা উল্লেখ করেন, গত রমজানে একই সময়ে বিক্রি বেশি ছিল, কিন্তু এই বছর গরম তেমন না থাকায় গ্রাহক সংখ্যা কমে গেছে। তবুও তিনি আশাবাদী যে রমজানের মাঝামাঝি তাপমাত্রা বাড়লে বিক্রি আবার বৃদ্ধি পাবে।

বিক্রেতা মুকুল দেবনাথের মতে, পেস্তা বাদামের জুস, জাম‑কতবেল জুস, অ্যাভোকাডো মিল্কশেক এবং জিরাপানি বর্তমানে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এই পণ্যগুলোতে স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই গ্রাহকদের আকর্ষণ করছে।

দোকানগুলোর মূল্য তালিকায় দেখা যায়, সাধারণ জুসের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা আম, পাকা আম, তরমুজ, আনারস ও পেঁপের জুস ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। মাল্টা ও কমলার জুসের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কালোজাম ও আঙুরের জুস ৬০ টাকা, লেমন মিন্ট ৪০ টাকা।

বিশেষ জুসের মধ্যে কাঁঠাল, আঙুর ও জলপাইয়ের জুস ৮০ টাকায় পাওয়া যায়, আর বেদানা জুসের দাম ১৫০ টাকা। মিল্কশেকের দাম সামান্য বেশি; কলা মিল্কশেক ৮০ টাকা, স্ট্রবেরি মিল্কশেক ৯০ টাকা, চকো মিল্কশেক ৬০ টাকা, কাজু মিল্কশেক ৮০ টাকা, পেস্তা ও ড্রাগন, অ্যাভোকাডো মিল্কশেক প্রত্যেকটি ১০০ টাকা।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রমজানের প্রথম সপ্তাহে তাপমাত্রা কমে গ্রাহকের পছন্দে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক, তবে গরমের তীব্রতা বাড়লে জুসের চাহিদা পুনরায় তীব্র হবে। তাই বিক্রেতাদের জন্য তাপমাত্রা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্টক ও মূল্য সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

অল্প তাপমাত্রার কারণে বিক্রির হ্রাস ছোট ব্যবসার নগদ প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যারা শুধুমাত্র রমজানের ইফতার সময়ের বিক্রয়ে নির্ভরশীল। তবে বিক্রেতারা উল্লেখ করেছেন, রমজানের মাঝামাঝি তাপমাত্রা বাড়লে গ্রাহকরা আবার স্টলে জমা হবে।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, যদি গরমের তীব্রতা স্থায়ী না হয়, তবে বিক্রেতাদের বিকল্প পণ্য যেমন পুষ্টিকর শেক বা গরম পানীয় যুক্ত করা লাভজনক হতে পারে। তাপমাত্রা ওঠানামা অনুযায়ী পণ্য মিশ্রণ ও মূল্য নীতি সমন্বয় করলে বিক্রির ক্ষতি কমানো সম্ভব।

সারসংক্ষেপে, রমজানের শুরুর সপ্তাহে ঢাকার অলিগলিতে তাপমাত্রা কমে জুসের বিক্রি হ্রাস পেয়েছে, তবে বিক্রেতারা গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রির পুনরুত্থান প্রত্যাশা করছেন। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য ও মূল্য সমন্বয় করা জরুরি।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments