সকাল ১১ টায় ঢাকা সেক্রেটারিয়েটের প্রধান হলঘরে সৌদি আরবের দূত ডাঃ আবদুল্লাহ ইবনে ধাফের ইবনে উবায়া তারেক রহমানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎটি তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণের পর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈদেশিক সফর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন বিদেশ মন্ত্রী ডাঃ খালিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। দুজনেই দূতকে স্বাগত জানিয়ে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দূত ডাঃ আবদুল্লাহ তারেক রহমানকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতে সৌদি আরব ও বাংলাদেশ ব্যাংক (বাংলাদেশ) মধ্যে সহযোগিতা আরও দৃঢ় হবে বলে আশাব্যক্তি প্রকাশ করেন। তিনি দু’দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রমিক বিষয়ক চুক্তির উন্নয়নের সম্ভাবনা উল্লেখ করেন।
সেই দিন সকালে ৯:০৫ টায় তারেক রহমান সেক্রেটারিয়েটের দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রধান সচিব এ.বি.এম. আবদুস সত্তরের স্বাগত পান। প্রধান সচিবের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে তিনি দফতরের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেন।
প্রধানমন্ত্রী অফিসের সূত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান পুরো দিন জুড়ে বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাষ্ট্র মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকগুলোতে নীতি নির্ধারণ, প্রশাসনিক বিষয় এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হবে।
সৌদি আরব ও বাংলাদেশ ব্যাংক (বাংলাদেশ) এর মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী বন্ধুত্ব রয়েছে, যা বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। দূত ডাঃ আবদুল্লাহের এই সফর উভয় দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
ডাঃ আবদুল্লাহ পূর্বে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশ ব্যাংক (বাংলাদেশ) সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তার পূর্ববর্তী সফরগুলোতে দু’দেশের জ্বালানি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রী ডাঃ খালিলুর রহমানের উপস্থিতি এই সাক্ষাৎকে কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। তিনি দূতকে বাংলাদেশ ব্যাংক (বাংলাদেশ) এর সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও বিনিয়োগ নীতিমালা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও এই আলোচনায় অংশ নেন এবং দু’দেশের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রক্রিয়ার ওপর জোর দেন। তিনি ভবিষ্যতে যৌথ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করেন।
বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন, এই সাক্ষাৎকারের পরপরই বাণিজ্যিক চুক্তি, শ্রমিক নিয়মাবলী এবং পর্যটন প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সূচনা হতে পারে। দু’দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায় এই সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানাচ্ছে।
বাকি দিনের বৈঠকগুলোতে অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তগুলো দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ডাঃ আবদুল্লাহ ইবনে ধাফের ইবনে উবায়া এবং তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎ দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাওয়ার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে।



