32 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধদুর্নীতি দমন কমিশন পিএসসি গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখের অবৈধ সম্পদের...

দুর্নীতি দমন কমিশন পিএসসি গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখের অবৈধ সম্পদের মামলা দায়ের

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুর্নীতি দমন কমিশন) রোববার ঢাকা-১-এ পিএসসির এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্ত মো. আতাউর রহমান, পিএসসির সাবেক সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি চালাতেন এবং প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ-বাণিজ্য ও নিয়োগপ্রক্রিয়ার অনিয়মের সন্দেহে তদন্তের মুখে পড়েন। মামলাটি সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদের নাম দিয়ে দায়ের করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছে, আতাউরের ব্যাংক হিসাবগুলোতে ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ১৮৯টি অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। প্রতিটি লেনদেনে ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকার পরিমাণে টাকা গ্রহণের রেকর্ড রয়েছে, তবে তিনি এই অর্থের বৈধ উৎস প্রমাণ করতে পারেননি।

ব্যাংক লেনদেনের পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, আতাউর এবং তার পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের নাম ব্যবহার করে ঘুষের অর্থ লেনদেনের সন্দেহ রয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে ঢাকা শহরে আতাউর ও তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং গাড়ি ক্রয় করা হয়েছে। এসব সম্পত্তি এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পিএসসির অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আতাউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সংস্থার জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান উল্লেখ করেছেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে জানাব।” তবে তিনি অতিরিক্ত মন্তব্যে এ বিষয়ের বিস্তারিত জানার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, “অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।” এই মন্তব্য মামলার আইনি ভিত্তি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা তুলে ধরেছে।

আতাউর রহমান পূর্বে পিএসসির সাবেক সদস্য শেখ আলতাফ আলীসহ একাধিক সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তার দায়িত্বকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে।

এর আগে প্রশ্নফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে তার বিশাল সম্পদের তথ্য প্রকাশ পেয়ে একই রকম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন, “পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দেশের শাসনব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য।” তিনি এই ধরনের দুর্নীতি মামলাকে সতর্কতা হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছেন।

মামলাটি এখন আদালতে শোনার জন্য প্রস্তুত, এবং দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান ফলাফলের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সম্পদ জব্দের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। যদি আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করে, তবে তিনি সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ, জরিমানা এবং কারাদণ্ডের শাস্তি পেতে পারেন।

এই মামলার মাধ্যমে পিএসসির নিয়োগ ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা পুনরায় জোরদার হয়েছে, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্নীতি রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি প্রকাশিত হয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments