ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নিউ দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমানভাবে সব দেশের সঙ্গে আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে এক নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
লুলা বলেন, “আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানাতে চাই যে আমরা নতুন কোনো শীতল যুদ্ধ চাই না, অন্য কোনো দেশের হস্তক্ষেপে আমরা বিরত, সব দেশের সঙ্গে সমান আচরণ প্রত্যাশা করি।” তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সংরক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে শুক্রবার ছয় থেকে তিন ভোটে নির্ধারিত হয় যে ১৯৭৭ সালের আইন, যার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বে একক দেশকে হঠাৎ শুল্ক আরোপের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয় না। এই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা ব্রাজিলের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলেছে।
লুলা স্বীকার করেন যে অন্য দেশের আদালতের রায়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানানো তার পদ্ধতি নয়, তবে তিনি আশাবাদী যে ব্রাজিল‑যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শীঘ্রই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনর্নির্মাণে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন।
ব্রাজিলের বামপন্থী নেতা ড. লুলা আগামী মাসে ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপের পর ব্রাজিল‑যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।” লুলা আরও যোগ করেন, ব্রাজিলের লক্ষ্য হল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকরণ এবং জনগণের জীবনমান উন্নত করা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ব্রাজিলের প্রধান রপ্তানির ওপর পূর্বে আরোপিত ৪০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পুনরুদ্ধারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি পূর্বের উত্তেজনা কমিয়ে নতুন সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেছে।
লুলা নিউ দিল্লিতে এআই শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সময় বলেন, “বিশ্বকে আরও অশান্তি নয়, শান্তি দরকার।” তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তিপূর্ণ সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
ইন্ডিয়া‑ব্রাজিল শীর্ষ সম্মেলনে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে লুলা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। দুই দেশ সমালোচনামূলক খনিজ ও বিরল ধাতু ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে এবং অন্যান্য বহু চুক্তি সম্পন্ন করতে সম্মত হয়। এই চুক্তিগুলি উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, লুলা ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত আলোচনার ফলাফল বাণিজ্যিক শুল্কের পুনর্বিবেচনা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্বাভাবিকীকরণে সহায়ক হবে। এছাড়া, ইন্ডিয়া‑ব্রাজিলের নতুন সহযোগিতা অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি ও আন্তর্জাতিক শুল্ক কাঠামোর ওপর এই উন্নয়নগুলো কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নজরে থাকবে।



