লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলা, নর্থ বদারপুর গ্রামে গতকাল সন্ধ্যায় এক প্রবাসী নাগরিকের ওপর বিদ্যুৎ বিলের টাকার ছোট বিবাদে হিংসাত্মক হামলা ঘটায় তার বড় ভাইসহ কয়েকজন তাকে মারধর করে হত্যা করে। ঘটনাটি রাত প্রায় ৮:৩০ টায় রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটেছে, যেখানে আহতকে নিয়ে গিয়ে ডাক্তারেরা মৃত্যুর ঘোষণা দেন।
বিক্রয়কৃত আলমগীর হোসেন, যিনি দুবাইতে বহু বছর কাজ করে ফিরে বাড়িতে ছুটিতে এসেছিলেন, তার ভাই খোরশেদ আলমের সঙ্গে একই পারিবারিক বাড়ির ভিন্ন অংশে থাকতেন এবং দুজনেরই একটি যৌথ বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করা হতো। উভয়ের পিতার নাম আছান উল্লাহ, যিনি পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছেন।
বিবাদের মূল কারণ ছিল জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিলের পাঁচ টাকা ঘাটতি। আলমগীর তার ভাগের টাকা পরিশোধ করলেও ছোট নোটের অভাবে পাঁচ টাকা কমে যায়, ফলে দুই ভাইয়ের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
আলমগীরের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বর্ণনা অনুযায়ী, তর্কটি ইফতারের আগে শুরু হয় এবং দ্রুতই তীব্র হয়ে যায়। পরে সন্ধ্যা প্রায় ৭:৩০ টায় আলমগীর নিকটস্থ চা স্টলে গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সময় খোরশেদ আবার তাকে মুখোমুখি করে।
খোরশেদ এবং তার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি আলমগীরের ওপর গুলি না করে, তবে ঘুষি, লাথি এবং লাঠি দিয়ে আক্রমণ চালায়। শিকারকে গুরত্বপূর্ণ আঘাত হানার পর তারা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহতকে দ্রুত রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি পর্যবেক্ষণ করে রাত ৮:৩০ টায় মৃত্যুর ঘোষণা দেন। পরে পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠায়।
রামগঞ্জ থানা অফিসার-ইন-চার্জ মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে হিংসা শুরু হয় বিদ্যুৎ বিলের টাকার ঘাটতির কারণে এবং এতে মারাত্মক ফলাফল দেখা দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, সন্দেহভাজন খোরশেদ আলম ও তার সহযোদ্ধারা বর্তমানে পলায়নরত এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতার করার জন্য অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশের মতে, শিকারের দেহের অটোপসি ফলাফল জানার পর মামলাটি হত্যা হিসেবে রেজিস্টার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী তদন্ত চলবে। বর্তমানে মামলায় প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বিবৃতি এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে অপরাধীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় শোক প্রকাশ করে এবং পারিবারিক বিরোধের ফলে এ ধরনের হিংসা ঘটার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা পুলিশকে অনুরোধ করে, দ্রুত সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রামগঞ্জ থানা অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে, যাতে একই ধরনের পারিবারিক বিবাদে হিংসা রোধ করা যায়। এছাড়া, বিদ্যুৎ বিলের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মামলার অগ্রগতি এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার সংক্রান্ত তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট সকল প্রমাণ সংগ্রহের কাজ ত্বরান্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।



