32 C
Dhaka
Sunday, February 22, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিআহসান খান চৌধুরীকে নতুন আর্থিক মন্ত্রীর জন্য ২০টি অগ্রাধিকার কাজের তালিকা

আহসান খান চৌধুরীকে নতুন আর্থিক মন্ত্রীর জন্য ২০টি অগ্রাধিকার কাজের তালিকা

দ্বিতীয় পর্যায়ের সরকার গঠনের পর, আর্থিক উপদেষ্টা সেলাহুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে নতুন আর্থিক মন্ত্রী আহসান খান চৌধুরীর জন্য ২০টি জরুরি কাজের তালিকা রেখে গেছেন। তালিকাটি দেশের আর্থিক নীতি পুনর্গঠনের জন্য প্রাথমিক দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

ইন্টারিম সরকার অবসরের পর, বাংলাদেশ সরকার পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করেছে এবং আর্থিক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবর্তন ঘটেছে। সেলাহুদ্দিন আহমেদ, যিনি interim সরকারে আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছিলেন, তার শেষ কর্মে একটি বিশদ নোট তৈরি করেন।

নোটে উল্লেখ করা হয়েছে যে নতুন মন্ত্রীর কাজের পরিধি বিস্তৃত, কারণ দেশের অর্থনীতি বর্তমানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বাড়তে থাকা ঋণ, দুর্বল ব্যাংকিং সেক্টর এবং কর ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তায় ভুগছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কোন দিক থেকে শুরু করা হবে, তা নোটে স্পষ্ট করা হয়েছে।

মুদ্রাস্ফীতি সমস্যাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৩ থেকে মুদ্রাস্ফীতি ৯% এর উপরে স্থায়ী রয়েছে এবং জানুয়ারি মাসে বার্ষিক গড় ৮.৫৮% রেকর্ড করেছে। যদিও সাম্প্রতিক মাসে সামান্য হ্রাস দেখা গেছে, তবে তা এখনও উচ্চমাত্রায় রয়েছে।

সেলাহুদ্দিন আহমেদ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর্থিক ও মুদ্রানীতি সমন্বয়ের আহ্বান জানান। তিনি বাজার পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করা, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা দূর করা এবং প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেন।

কর সংস্কারকে মুদ্রাস্ফীতির পরের প্রধান কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় রাজস্ব নীতি বিভাগ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ গঠন সম্পন্ন করা জরুরি বলে তিনি জোর দেন।

এছাড়া, ভ্যাট স্বয়ংক্রিয়করণ, ই-ইনভয়েসিং প্রয়োগ, আয়কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, শুল্ক প্রশাসনের আধুনিকীকরণ এবং কর ছাড়ের পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। করভিত্তি বিস্তৃত করা এবং কর ফাঁকি রোধ করাও অগ্রাধিকার।

কর সংস্কার সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বানও নোটে রয়েছে। এই রিপোর্টে প্রস্তাবিত সংস্কারগুলোকে কার্যকর করা হলে রাজস্ব সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি আশা করা যায়।

বহিরাগত দিক থেকে মুদ্রা রিজার্ভ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা দরকার। সেলাহুদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে $৪.১১ বিলিয়ন বহিরাগত ঋণ পরিশোধ করেছে এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে $৪.৮৩ বিলিয়ন ঋণ পরিশোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক রাখার পাশাপাশি, রপ্তানি ও আমদানি চ্যানেলকে উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা প্রদান করা উচিত বলে তিনি পরামর্শ দেন। এই নীতি মুদ্রা স্থিতিশীলতা এবং রিজার্ভ বাড়াতে সহায়ক হবে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন আর্থিক মন্ত্রীর এই অগ্রাধিকার তালিকা সরকারকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এই নোটকে নীতি নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং ঋণ পরিশোধের লক্ষ্য পূরণে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেওয়া দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সেলাহুদ্দিন আহমেদের এই শেষ কাজটি নতুন মন্ত্রীর জন্য একটি রোডম্যাপ হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের আর্থিক নীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments