নীল কাতিয়াল, ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রাক্তন অ্যাক্টিং সলিসিটর জেনারেল, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি বাতিলের মামলায় মূল ভূমিকা পালন করেছেন, যা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে শোনানো হয়। তার আইনি পটভূমি, শিক্ষা ও বর্তমান পেশাগত অবস্থান এই মামলার প্রেক্ষাপটকে আরও স্পষ্ট করে।
শিকাগোতে জন্মগ্রহণকারী কাতিয়ালের বাবা প্রকৌশলী এবং মা চিকিৎসক, দুজনেই ভারতীয় অভিবাসী। পরিবারিক পরিবেশ তাকে শৈশব থেকেই শিখতে ও পরিশ্রমের মূল্য বুঝিয়ে দেয়।
কাতিয়াল ডার্টমাউথ কলেজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ইয়েল ল’ স্কুলে আইন শিক্ষায় অগ্রসর হন। উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের সহকারী হিসেবে প্রথম পদে নিযুক্ত হন, যেখানে তিনি ফেডারেল আদালতের কাজের সঙ্গে পরিচিত হন।
২০১০ সালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে অ্যাক্টিং সলিসিটর জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেন। এই পদে থাকাকালীন তিনি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে পঞ্চাশের বেশি মামলা উপস্থাপন করেন, যা সংখ্যালঘু ও অভিবাসী আইনজীবীদের মধ্যে রেকর্ডসংখ্যা হিসেবে স্বীকৃত।
কাতিয়ালের আইনি ক্যারিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলায় চিহ্নিত। ২০১৭ সালে তিনি ট্রাম্পের ট্রাভেল ব্যান চ্যালেঞ্জের নেতৃত্ব দেন, ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইন রক্ষায় সফল রায় অর্জন করেন, এবং পরিবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় সর্বসম্মত রায় নিশ্চিত করেন। এছাড়া জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের মামলায় মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বিশেষ কৌন্সিলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে কাতিয়াল মিলব্যাঙ্ক এলএলপির অংশীদার এবং জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ল’ সেন্টারের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি আইনি শিক্ষায় নতুন প্রজন্মকে গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করছেন এবং একই সঙ্গে উচ্চপ্রোফাইল আইন ফার্মের কৌশলগত সিদ্ধান্তে অংশগ্রহণ করছেন।
কাতিয়াল তার অভিজ্ঞতা ও বিশ্লেষণ “ইমপিচঃ দ্য কেস অ্যাগেনেস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প” শীর্ষক বইয়ে সংকলন করেছেন। বইটি ট্রাম্পের নীতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আইনি কৌশল ও ফলাফল বিশদভাবে তুলে ধরে, যা আইনজীবী ও নীতি বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত।
একটি সাক্ষাৎকারে কাতিয়াল উল্লেখ করেন যে, একজন অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টের অবৈধ কাজের বিরোধিতা করতে পেরেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানিক কাঠামো স্বয়ং সংশোধনের ক্ষমতা রাখে এবং সর্বোচ্চ ক্ষমতাসীন ব্যক্তি হলেও সংবিধানের সীমা অতিক্রম করতে পারেন না।
এই রায়ের ফলে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপের আইনি বৈধতা পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। ভবিষ্যতে অনুরূপ বাণিজ্য নীতি বা অভিবাসন সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়বে, এবং কাতিয়ালের মতো অভিজ্ঞ আইনজীবীর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।



