বিসিবি আজ দুপুর ১ টায় জুমের মাধ্যমে পরিচালকদের বৈঠক আয়োজন করেছে, যেখানে সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অস্ট্রেলিয়া থেকে অনলাইনভাবে অংশগ্রহণ করবেন। সভার মূল উদ্দেশ্য হল বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করা এবং গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গন সাম্প্রতিক সময়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি, বিশেষত টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিতে পারার ফলে খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন উল্লেখ করেছেন, দু’জন খেলোয়াড়ই এই পরিস্থিতিতে কাঁদতে বাধ্য হয়েছেন।
বিসিবি পরিচালকদের মধ্যে গত কয়েকদিনে পাল্টা মন্তব্যের ধারাবাহিকতা দেখা গেছে, যা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে, সভাপতি বুলবুলের অস্ট্রেলিয়া সফর সম্পর্কেও বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটিতে অন্য বিভাগের এক পরিচালকের হস্তক্ষেপের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে, যা পরিচালকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয়ের প্রেক্ষিতে বুলবুল পরিচালকদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি পরিষ্কার করার জন্য বৈঠক ডেকেছেন।
বৈঠকের আয়োজনের বিস্তারিত জানানো হয়েছে, যেখানে আজ দুপুর ১ টায় জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে সকল পরিচালক অংশ নেবেন। বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল, পাশাপাশি অন্যান্য পরিচালকেরা অনলাইনভাবে যুক্ত হবেন।
এবারের বৈঠকের এজেন্ডা বেশ গুরুত্বপূর্ণ, প্রথমে আসন্ন নারী বিপিএল (বেসবোল প্লে) আয়োজনের বিষয়টি আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নারী বিপিএলের সফল বাস্তবায়ন দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে মূল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় এজেন্ডা হিসেবে নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগের বিষয়টি আলোচনার তালিকায় রয়েছে। বর্তমান নির্বাচক দলের কাঠামো ও কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিসিবি এই দুই মূল বিষয়ের ওপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে ক্রিকেটের সামগ্রিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে চায়। বিশেষত নারী বিপিএলের ক্ষেত্রে সময়মতো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে আর্থিক ও ক্রীড়া দিক থেকে ক্ষতি হতে পারে।
নতুন প্রধান নির্বাচকের নিয়োগে অভিজ্ঞতা ও স্বচ্ছতা প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হবে, যাতে ভবিষ্যৎ দলের গঠন প্রক্রিয়া আরও পেশাদারী হয়। নির্বাচক দলের পুনর্গঠন ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বৈঠকের ফলাফল ও সিদ্ধান্তগুলি পরবর্তী দিনে বিসিবি অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডার জানাতে পারে। এই প্রকাশনা দেশের ক্রিকেট প্রেমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হবে।
বিসিবি বর্তমানে যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তা মোকাবেলায় এই বৈঠকটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। পরিচালকদের সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণের আশা করা হচ্ছে।



