মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রমজান মাসে জনসাধারণকে টিবি (টিউবারকুলোসিস) প্রতিরোধে সতর্ক করেছে। শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ছয় নম্বর মহামারী সপ্তাহে দেশব্যাপী নতুন টিবি রোগীর সংখ্যা ৫৯৬ হয়েছে। এই নতুন রোগীসংখ্যা মোট রোগীর সংখ্যা ৩,১৬১-এ নিয়ে এসেছে, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভিড়ভাট্টা, বন্ধ এবং বায়ুপ্রবাহ কম এমন স্থানগুলো টিবি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, বিশেষত যদি সেখানে অচিকিত্সিত সক্রিয় টিবি রোগীর উপস্থিতি থাকে। এ ধরনের পরিবেশে দীর্ঘ সময় থাকা রোগের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে।
রমজান মাসের বিশেষত্বের কারণে মানুষ বাজারে, ইফতার সমাবেশে এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বেশি মিলিত হয়। যদিও রমজান নিজেই টিবি সংক্রমণের কারণ নয়, তবে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বাড়ার ফলে সংস্পর্শের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তাই মন্ত্রণালয় বিশেষভাবে ভিড়ভাট্টা স্থানে মাস্ক পরিধানকে গুরুত্ব দিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, সম্প্রদায়ের সচেতনতা এবং সক্রিয় পদক্ষেপই টিবি রোগের প্রাথমিক সনাক্তকরণ, সঠিক চিকিৎসা এবং বিস্তার রোধের মূল চাবিকাঠি। রোগের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা রোগীর স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্লু বা কোভিড-১৯-এর তুলনায় টিবি ধীরে ছড়ায় এবং সাধারণত দীর্ঘ সময়ের পুনরাবৃত্তি সংস্পর্শের প্রয়োজন হয়। তাই একবারের সংস্পর্শে রোগের ঝুঁকি কমলেও, ধারাবাহিকভাবে বন্ধ ও অপ্রতুল বায়ুপ্রবাহযুক্ত পরিবেশে থাকা রোগীর ঝুঁকি বাড়ে।
মন্ত্রণালয় নাগরিকদেরকে সঠিক কাশি ও হাঁচির শিষ্টাচার মেনে চলতে, ঘরের ভিতরে পর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং উপসর্গ দেখা দিলে (যেমন দুই সপ্তাহের বেশি কাশি) দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তাছাড়া, উপসর্গযুক্ত বা ভিড়ভাট্টা স্থানে উপস্থিত থাকলে মাস্ক পরিধান করা উচিত।
প্রতিবেদিত রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী, সাবাহে সর্বোচ্চ ৭৫৫টি কেস রেকর্ড হয়েছে, যা দেশের সবচেয়ে বেশি রোগীর সংখ্যা নির্দেশ করে। সেলাঙ্গরে ৫৯৬টি কেস, সারা ওয়াকে ৩৩২টি কেস এবং জোহরে ২৮০টি কেস রিপোর্ট হয়েছে।
কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়া ফেডারেল টেরিটরিতে মোট ২৪৪টি কেস, কেদাহে ১৮১টি, পেনাংয়ে ১৭২টি এবং পেরাকে ১৫৪টি কেস রেকর্ড হয়েছে। কেলান্তানে ১২১টি, পাহাংয়ে ১০৩টি, তেরেংগানুতে ৭৪টি এবং নেগেরি সেমবিলানে ৬২টি কেস পাওয়া গেছে।
মেলাকায় ৪৮টি, পেরলিসে ২১টি এবং লাবুয়ান ফেডারেল টেরিটরিতে সর্বনিম্ন ১৮টি কেস রিপোর্ট হয়েছে। এই তথ্যগুলো থেকে দেখা যায় যে, টিবি রোগের প্রাদুর্ভাব দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে ছড়িয়ে রয়েছে, তবে সাবাহ ও সেলাঙ্গর মতো উচ্চ জনসংখ্যার রাজ্যে রোগের সংখ্যা বেশি।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রমজান মাসে টিবি সংক্রমণ রোধে সকলকে মাস্ক পরিধান, ভাল বায়ুপ্রবাহ এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছে। আপনি কি আপনার পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে এই সতর্কতা শেয়ার করবেন, যাতে সবাই নিরাপদ ও সুস্থ রমজান উপভোগ করতে পারে?



