ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বাংলাদেশ সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা তিন দিন পরে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে সম্পন্ন হয়। এই চুক্তি দেশের রপ্তানি সুরক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে ১১ দিন পর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার আইনি ভিত্তি নষ্ট হয়ে যায়।
ইন্টারিম সরকার, যাকে ইউনুস প্রশাসন বলা হয়, নির্বাচনের ঘনিষ্ঠ সময়ে চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য সময়ের চাপের মুখে ছিল। সরকারটি টারিফ শক এবং একতরফা আমেরিকান বাণিজ্য পদক্ষেপের ভয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। এই প্রেক্ষাপটে চুক্তি স্বাক্ষরের সিদ্ধান্তকে হঠাৎ এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা যায়।
চুক্তির মূল বিষয় ছিল দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক টারিফ হ্রাস এবং বাণিজ্যিক বাধা কমানো, যাতে বাংলাদেশ তার রপ্তানি পণ্যগুলোর জন্য মার্কিন বাজারে সুবিধা পায়। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (International Emergency Economic Powers Act) ব্যবহার করে টারিফ আরোপের পরিকল্পনা করছিল। এই আইনটি পরে আদালতে বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রায় দেয় যে ট্রাম্প প্রশাসন আইনি অনুমতি ছাড়া এই আইন ব্যবহার করে টারিফ আরোপ করেছে। আদালত রায়ে উল্লেখ করে যে আইনটি কেবল জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করা যায়, আর টারিফের জন্য তা ব্যবহার করা অনধিকারিক। ফলে, চুক্তির ভিত্তি হিসেবে গৃহীত টারিফ ব্যবস্থা অবৈধ বলে ঘোষিত হয়।
এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি নিয়ে নেওয়া দ্রুত সিদ্ধান্তের যুক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পূর্বে অনুমান করা হয়েছিল যে চুক্তি দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করবে, তবে এখন তা অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারকে এখন চুক্তির বৈধতা ও বাস্তবিক প্রভাব পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
নতুন সরকার, যার প্রধানমন্ত্রীর পদে তারেক রহমান আছেন, এই জটিল পরিস্থিতি উত্তর দিতে বাধ্য। তারেক রহমানের সরকারকে চুক্তির অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বগুলো সামলাতে হবে, যা ইন্টারিম সরকারের স্বাক্ষরের পর থেকেই বিদ্যমান। সরকারকে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উভয় স্তরে সমন্বয়পূর্ণ কৌশল গড়ে তুলতে হবে।
বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনকারী ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খালিলুর রহমান। তিনি স্বীকার করেছেন যে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মার্কিন আদালতে টারিফ নীতির বৈধতা নিয়ে চলমান বিতর্ক ছিল। এখন তাকে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন সরকার এত দ্রুত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, যদিও আইনি অনিশ্চয়তা স্পষ্ট ছিল।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে ইন্টারিম সরকার টারিফ শকের ভয় এবং একতরফা আমেরিকান পদক্ষেপের আশঙ্কা থেকে কাজ করেছে। তবে সতর্ক সংকেতগুলো উপেক্ষা করা হয়েছিল, যা এখন প্রশ্নের মুখে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং যথাযথ পর্যালোচনা না করা এই সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, শক্তিশালী অংশীদার সঙ্গে আলোচনা করার সময় হঠাৎ পদক্ষেপ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যখন আইনি কাঠামো অনিশ্চিত, তখন সময় নিয়ে আলোচনা করা অধিক নিরাপদ। বাংলাদেশ সরকারকে এখন এই শিক্ষা থেকে শিখে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তারেরেক রহমানের সরকার এখন চুক্তির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ঘোষণা করেছে, যাতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তির শর্তাবলী পুনরায় বিবেচনা করা যায়। এই পদক্ষেপটি অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের পর পুনর্মূল্যায়ন করছে।
আসন্ন সপ্তাহগুলোতে সরকারকে চুক্তির আইনি বৈধতা, অর্থনৈতিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা পরিচালনা করতে হবে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলোতে টারিফ পুনরায় আলোচনা, সম্ভাব্য বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুসরণ করা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই প্রক্রিয়া দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ সরকার ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে হঠাৎ বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে, তবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার আইনি ভিত্তি নষ্ট হয়ে সরকারকে পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধনের পথে নিয়ে গেছে। নতুন সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কূটনৈতিক সতর্কতা এবং আইনগত স্পষ্টতা বজায় রাখতে হবে, যাতে দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।



