বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দল টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ড, ব্যাংককে আজ ভারতের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে। দলটি অপরাজিত রানে টুর্নামেন্টে অগ্রসর হয়ে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে প্রস্তুত। এ টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিরোপা জয় এবং দীর্ঘ সময়ের ম্যাচের অভাবের পর খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা প্রদান।
থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ACC Women’s Asia Cup Rising Stars 2026 টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে দল দুইটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল: শিরোপা জয় এবং তরুণ খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। দীর্ঘ সময়ের ম্যাচের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য এই সুযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশের দল অপরাজিত রানে ফাইনালে পৌঁছেছে এবং এখন ভারতের সঙ্গে চূড়ান্ত মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি শিরোপা নির্ধারণের শেষ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। দলটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ করেছে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছে।
দলটির স্পিনার ফাহিমা খাতুন এই টুর্নামেন্টে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি চারটি ম্যাচে মোট ৮৯ রান স্কোর করে এবং ছয়টি উইকেট নিয়ে দলের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। বামহাতের স্পিনার শানজিদা আখতার মেঘলা সাতটি উইকেট নিয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, আর বামহাতের পেসার ফারিহা ইসলাম ত্রিসনা দুইটি উইকেট নিলেন। শোরিফা খাতুন পাঁচটি এবং ফাতেমা জাহান চারটি উইকেট নিয়ে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই সমর্থন দিয়েছেন।
ব্যাটিং বিভাগে লতা মন্ডল ৮৩ রান এবং সর্মিন সুলতানা ৭৫ রান করে দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই রানের মাধ্যমে দলটি ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্কোর বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফাহিমা খাতুনের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যেহেতু তিনি জাতীয় দলে সীমিত সুযোগ পেয়ে থাকলেও এই টুর্নামেন্টে তার দক্ষতা স্পষ্ট হয়েছে।
প্রধান কোচ নাসিরুদ্দিন ফারুকের মতে, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করেছে। তিনি ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে ফারজানা ঈসমিন মেধা ও সাদিয়া আখতার পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করেছেন এবং তাদের উন্নয়নের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। কোচের মন্তব্যে দেখা যায় যে দলটি এখন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
ফারুক ত্রিসনা এবং মেঘলার জন্য এই টুর্নামেন্টকে বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ত্রিসনা জাতীয় দলে মারুফা আখতার প্রধান পেসার হওয়ায় কম সুযোগ পায়, তাই এই টুর্নামেন্টে তার মূল্য প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে মেঘলা সীমিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের কারণে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এই টুর্নামেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছেন।
ফাহিমা খাতুনের ব্যাটিং অবস্থানও টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে ছয় নম্বর থেকে চার নম্বরে পরিবর্তন করা হয়েছিল, যা তার সম্পূর্ণ অবদানকে আরও উজ্জ্বল করেছে। কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফাহিমা এখন পর্যন্ত দলের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক হিসেবে স্বীকৃত। তার এই পরিবর্তন দলকে অতিরিক্ত শক্তি প্রদান করেছে।
আজকের ফাইনাল ম্যাচে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দলই শিরোপা জয়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। টার্ডথাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্যায়, যেখানে উভয় দলের কৌশল ও দক্ষতা পরীক্ষা হবে। দর্শকরা এই উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি দেখতে অপেক্ষা করছে।
এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণের সুযোগ পেয়েছে এবং কোচের মতে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে আরও বেশি খেলোয়াড়ের নাম উঠে আসবে। টিমের অপরাজিত রেকর্ড এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।



