মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পারস্পরিক ট্যারিফ ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা চাহিদা বাড়িয়ে বাংলাদেশি রপ্তানির অর্ডার বাড়াতে পারে বলে স্থানীয় উদ্যোক্তা ও বাণিজ্য বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন। তবে, ঢাকা ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, ফলে ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরপরই ডোনাল্ড ট্রাম্প সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। গতকাল তিনি এই হারকে ১৫ শতাংশে বাড়িয়ে দেন, যা পূর্বের ১৯ শতাংশ পারস্পরিক ট্যারিফের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের বিশিষ্ট ফেলো মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের মুখে বাংলাদেশকে কৌশলগত সতর্কতা ও হিসাবি পদ্ধতিতে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে তিন দিন আগে, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তাড়াহুড়ো করা উচিত ছিল না।
ভবিষ্যৎ আলোচনায় আরও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, তিনি যোগ করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে ট্যারিফ পুনর্বিবেচনা করার, এবং তিনি এই ক্ষমতা ব্যবহার করেছেন।
যদি ১৫ শতাংশের নতুন হার বাংলাদেশে চুক্তিকৃত ১৯ শতাংশ পারস্পরিক ট্যারিফের পরিবর্তে কার্যকর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ওপর মোট শুল্ক ৩১.৫ শতাংশে পৌঁছাবে। এতে বর্তমান ১৬.৫ শতাংশ সর্বোত্তম সুবিধা (MFN) শুল্কও অন্তর্ভুক্ত হবে।
MFN শুল্কের হার পোশাকের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়; প্যান্ট, টি-শার্ট, ফরমাল শার্ট এবং ডেনিমের মতো মূল আইটেমগুলোর শুল্ক ১৬.৫ শতাংশের নিচে থাকে। এই পার্থক্য রপ্তানিকারকদের জন্য মূল্য নির্ধারণে জটিলতা বাড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, ট্যারিফের ধারাবাহিক পরিবর্তন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা কঠিন করে তুলছে। পূর্বে ১৯ শতাংশের হার ভিত্তিক পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বেশিরভাগ সরবরাহকারী গ্রহণ করে ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরবরাহকারীরা নতুন শুল্ক কাঠামোর পূর্বাভাস না পেয়ে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল পুনর্গঠন করতে বাধ্য হচ্ছে। এই অস্থিরতা রপ্তানি খাতের লাভজনকতা ও কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি দ্রুত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের রপ্তানি প্রবাহে অস্থায়ী ধাক্কা লাগতে পারে। তবে, যদি ভোক্তা চাহিদা বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে নতুন বাজার সুযোগও উন্মুক্ত হতে পারে।
অবস্থার জটিলতা বিবেচনা করে, সরকারকে ট্যারিফ পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন করে কূটনৈতিক আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তাবলী পুনর্বিবেচনা এবং নতুন শুল্ক কাঠামোর সাথে মানিয়ে নেওয়া শিল্পের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ বৃদ্ধি বাংলাদেশি গার্মেন্টস রপ্তানির জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। শিল্প সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের যৌথভাবে কৌশল নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যাতে রপ্তানি প্রবাহ স্থিতিশীল থাকে এবং বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া যায়।



